Uncategorized, সেলিব্রিটি বার্তা

সালমানের স্ত্রী বলতে গেলে অবশ্যই আমি – সামিরা হক

শত তরুণীর ‘স্বপ্নের নায়ক’ ছিলেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ্। তার এই স্বপ্নের নায়কের যাত্রা শুরু হয়ে ওঠার আ’গেই সামিরার প্রেমিক থেকে স্বা’মী হয়েছিলেন তিনি। তাকে বলা যায় ঢাকাই সি’নেমার তুমুল জনপ্রিয় একজন মুখ,যার খ্যাতি যুগের সাথে সাথে বেরেই চলছে। শাহরিয়ার ইমন থেকে নায়ক সালমান শাহ যাত্রা ছিল দারুন।

Tarokaloy_Salman_shah

কিন্তু তার মৃত্যুতে অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে যায় চলচ্চিত্র জগৎ। তার সিনেমা যাত্রায় বিশেষ ভূমিকা ছিল তার ভালোবাসার মানুষটি,আর তিনি ছিলেন তার স্ত্রী সামিরা হক। অনেক ভালোবেসে ঘর বেধেছিল তারা। সংসারের সাথে সাথে সালমান শাহ্ এর শিডিউল থেকে শুরু করে ড্রেস আপ বাছাই করতেন তিনি। সালমান তাকে ছাড়া কিছুই চিন্তা করতে পারতো না। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সালমান শাহর এ প্রিয় মানুষটি তাঁর মৃত্যু’র পরই ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছেন মৃত্যুর আসামি।

Tarokaloy_legend_salman_shah

কিন্তু এমনটা কেন হলো? এখন পর্যন্ত আসল তথ্য কেউ জানে না।এমনকি ওই রাতে বা এর আগে কি হয়েছিল কেউ জানে না একমাত্র তার স্ত্রী সামিরা হক ছাড়া। সালমান শাহ চলে যাওয়ার ২৫টি বছরের দিন সামিরা হক দীর্ঘ আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছেন। কথা বলছেন সালমান শাহকে মনে করা,তার মৃত্যু তদন্ত প্রতিবেদনসহ নানা বিষয়ে।

সালমান শাহ নেই ২৫ বছর হয়ে গেল। দেশের অগণিত ভক্ত তাঁকে এখনো ভালোবাসে, তার কথা স্মরণ করে। নিশ্চয়ই ভক্তদের চেয়ে আপনার তাঁকে মিস করার পরিধিটা অনেক বেশি। আপনি এখনো তাঁকে কীভাবে মনে করেন?

Tarokaloy_salman_shah_and_his_wife_samira

সামিরা হক : আমার কাছে নতুন কোনো অনুভূতি নেই। এই ২৫টি বছরের মধ্যে অনুভূতির কোনো পরিবর্তন নেই। কারণ, আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা,শুধু ৬ তারিখ কেন আমার কাছে প্রতিদিনই একই। যেদিন থেকে ইমন মারা গেছে, ও তো নেই, ইমন তো চলে গেল, ইমন চলে যাওয়া আমার জন্য যা,সেটা শুধু আমি জানি। ওটাকে মিস করা বলেন ,কষ্ট পাওয়া বলবেন,যায় বলেন সব কিন্তু একই। কীভাবে আমি নিজে বুঝাব ব্যাপার’টা আমার মধ্যে নেই।

Tarokaloy_salman_shah_and_his_wife_samira

ইমন আমার জন্য সালমান শাহ্ নয়,সালমান শাহ্ আপনাদের জন্য,ভক্তদের ভালোবাসার জন্য। ইমন আমার জন্য ইমন। আমার স্বামী ছিল, আমি কিন্তু ওর ডিভোর্সড ওয়াইফ না। অনেকে প্রশ্ন করে, সামিরা এখন অন্যের ওয়াইফ। আমি অবশ্যই এখন অন্যের ওয়াইফ। কিন্তু সালমানের সঙ্গে থাকা অবস্থায় সালমানের একটাই ওয়াইফ ছিল এবং সেটা আমি ছিলাম। সালমানের স্ত্রী বলতে গেলে অবশ্যই আমি।

Tarokaloy_salman_shah_and_his_wife_samira

এবং আমার স্বামী বলতে গেলে হয়তো বলবেন সালমান নেই বলে এখন আরেকটা হাজবেন্ড আছে। সালমান থাকলে তো হতো না। অনেকে বলতে পারে, কেন হলো,কেনো দ্বিতীয় বিয়েতে জড়ালেন!কেনো সালমানের ওয়াইফ এই পদটি ধরে রাখতে পারতেন উনি। বাচ্চা থাকলে হয়তো আমি কোনোদিন করতাম না। সেটারও কোনো উপায় ছিল না। এবং যেভাবে ওনারা আমাকে দোষ দিচ্ছেন,
তখন আমাকে রেহাই পাওয়ার মতো, আমাকে নিজে বাঁচার জন্য, নিজেকে সুযোগ দেওয়ার জন্য আমাকে তখন শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হলো। ইমন আমার থেকে দূরে চলে গেছে ,আমি সেই শোক কাটানোর আগেই আমাকে ওর মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হচ্ছিল,এখনও হচ্ছে! সে অবস্থায় আমাকে তাদের কাছে থেকে যাওয়া অসম্ভব ছিলো। আমি যদি নিজের যুদ্ধ নিজে না করি, আমার জন্য কেউ যুদ্ধ করতে পারছে না এখানে। আমারও তো একটা ফ্যামিলি আছে, বাবা-মা আছে, আমি তো একটা মেয়ে।

Tarokaloy_salman_shah

আমার কাছে ৬ তারিখ কোনো বিশেষ কিছু মনে হয় না। আমি প্রতিদিনই মনে করি এবং প্রতিদিনই আমার কাছে সমান দুঃখ-কষ্ট। এখন আমি বিয়ে করেছি, আমার বাচ্চা আছে। কিন্তু ওরা এটা জানে যে, আমি সালমানকে বা ইমনকে ভালোবাসি। এবং ইমনের জন্য আমার ভালোবাসা কোনো দিন শেষ হবার নয়।

এবং ইমনের কথা বললে আমার চোখে এখনো পানি আসবে এবং হাজবেন্ড মারা গেলে ওয়াইফের একটা ভেতরের যে জায়গাটা খালি হয়ে যায়, যেভাবে মায়ের বুক খালি হয়ে যায়, সেভাবে ওয়াইফেরও মন ভেঙে গেছে। এটা আমার জন্য কোনো নতুন কিছু নয়। মিস সব সময় করি, ইমনকে দেখতে ইচ্ছে করে, তার গলার আওয়াজ শুনতে ইচ্ছে করে।

ইমন বাসায় যে পাগলামিগুলো করত, ওগুলো মনে পড়ে, ভালো কথা গুলো মনে পড়লে কান্না পায়, ইমনের দুঃখ মনে পড়লে আরো কা’ন্না পায়। এভাবেই মিস করি।

Tarokaloy_salman_shah_and_his_wife_samira

দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি সালমান শাহর মৃত্যুর দায় থেকে আপনাকে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু আপনার কি মনে হয়, সাধারণ মানুষ কিংবা সালমান-ভক্তদের কাছ থেকে দায়মুক্তি পেয়েছেন? সালমান শাহর মৃত্যুর পেছনে আপনার হাত রয়েছে বলে মনে করেন ভক্ত ও সাধারণ মানুষ। ২৪ বছরে এর কোনো প্রমাণও নেই। এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

Tarokaloy_salman_shah_and_his_wife_samira

এই প্রশ্নে সামিরা বলেন : ওরা যখন এই স্মৃ’তি নিয়ে বড় হয়, ওরা বিশ্বাস করতে থাকে যে সালমানকে হত্যা করা হয়েছে। এটা ওদের দোষ না। ওরা জানে না, ওরা তো তখন ছিল না। ওরা ইমনকে নিজের চোখে দেখেছে! আমাকে দেখেছে! ওরা কিছুই দেখেনি.. ওরা কিছু না দেখে কীভাবে ওরা একটা জাজমেন্ট পাচ্ছে। এটা উচিত হবে না। একজনকে নিয়ে কথা বলার আগে আমাদের জানা উচিত যে আমরা আসলে কতটুকু সত্যি জানি। আমি অনুরোধ করব, যারা সালমান ভক্ত, যারা না বুঝে বলছে, আমি কিন্তু ওদের দোষ দিই না। তাদের ওপর আমার কোনো কষ্ট নেই। আর এটা খুব ভালো লাগে যে তার এখনো এত ভক্ত আছে, এটা আমার একটা গর্বের ‘জায়গা।তাকে না দেখে অনেকেই তাকে ভালোবাসে। কিন্তু আমি চাইব, ওরা এটা বুঝুক যে ইমন কাকে বেশি ভালোবাসত, ইমনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কী ছিল। ওটাকে তারা পছন্দ করুক বা অপছন্দ করুক, তাদের মানতেই হবে সেটা আমিই ছিলাম।

Previous ArticleNext Article