Uncategorized, সেলিব্রিটি বার্তা

বড় বোনের জন্য দোয়া চাচ্ছেন শবনম ফারিয়া

ভারতের দিল্লিতে অক্সিজেন সংকটে আছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার বড় বোন বন্যা। জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। গেলো বুধবার ৫ মে মধ্যরাতে ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় জানান তিনি,তার বার্তাটি বেশ বড় একটা স্ট্যাটাসই বলা চলে। এমনটাই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু এর আগেও , গেলো তিন দিন আগে অর্থাৎ ২ই মে তিনি প্রথম এই তথ্য প্রকাশ করছিলেন স্ট্যাটাস এ,যেখানে তার বোনের অসুস্থতার কথা উল্লেখ ছিল ।

tarokaloy_actress_shabnam_faria

সেখানে তিনি বলেছিলেন তার বড় বোনের আস্থমা এবং ডায়াবেটিস আছে সে সাথে এখন এই অবস্থা,তার বড় বোন জামাই এবং ভাগ্নি আশংকা মুক্তি , রিকভার হচ্ছে কিন্তু বড় বোনের কন্ডিশন তেমন ভালো নয়, তবে তার বড় বোন করোনায় আক্রান্ত সেই কথা ২৮ এপ্রিল জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তার বোনের অবস্থা দিন দিন আশঙ্কা জনক হয়ে পড়ছে যার দরুন তিনি বলেছিলেন,”করোনা শুধু জর নয়,এর থেকেও অনেক”। এসব বলে দুয়া চেয়ে ,নিরাপদে থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

tarokaloy_actress_shabnam_faria

তবে ৩দিনের আগের স্ট্যাটাস থেকেও বেশ কিছু জানা যায় তার গেলো ৫ই মে স্ট্যাটাসটিতে,কেননা সেখানে শবনম ফারিয়া বলেছেন….

‘আমার বড় বোন আমার ১৬ বছর আর মেজো বোন প্রায় ১২ বছরের বড়! আমার সারাজীবন কষ্ট ছিল, অন্যদের বোনদের সাথে যেমন বন্ডিং থাকে আমার নাই! ইনফ্যাক্ট আমার বড় দুইবোনের নিজেদের মধ্যে যেই বন্ডিং সেটা আমার সাথে নাই! আমার বয়স যখন সাড়ে তিন বড় আপুর বিয়ে হয়ে গেছে, ৫ বছর বয়সে ছোট আপু পড়াশুনার জন্য বাসার বাইরে, তারপরতো বিয়েই হয়ে গেল আপুর! আমি সেভাবে কখনো আমার বোনদের সাথে থাকি নাই। বরং আমার ভাগ্না-ভাগ্নি আমার বন্ধু!

tarokaloy_actress_shabnam_faria

বয়সে যুগের পার্থক্য থাকায় আমার সাথে ওদের একটা জেনারেশন গ্যাপ সব সময়ই প্রকট! তার উপর তাদের সব সময় মনে হতো ‘ভাল ফ্যামিলির মেয়েরা মিডিয়াতে কাজ করে না’, এইটা নিয়ে আমার দুঃখের সীমা-পরিসীমা নাই! কখনো উৎসাহ দূরের কথা, পারলে দুই-চারটা কথা শোনানোর সুযোগ পেলে মিস করে না! কষ্টের উপর ডাবল কষ্ট!

tarokaloy_actress_shabnam_faria

কিন্তু পরশু আমার বড় আপু যখন বললো, ‘তৃপ্তি আমার খুব কষ্ট হচ্ছে’ আমি জানি ফোনটা রেখে আমি কতক্ষণ হাউ-মাউ করে কাঁদছি! আমার মেজোবোন কল করে কাঁদতে কাঁদতে যখন বললো- ‘তৃপ্তি আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে, আমি এতো মানুষকে খাওয়াই, আমার বোন বিদেশে শুয়ে খাওয়ার কষ্ট পাচ্ছে’ কি বলে আমার বোনকে সান্তনা দিবো!

আমার বাবা ডাক্তার ছিলো। সবার সব অসুস্থতায় বাবার কাছে আসতো! আজকে দিল্লিতে আমার বোন অক্সিজেন এর অভাবে কষ্ট পাচ্ছে! আমরা হেল্পলেস, কিছু করার নাই।

আমরা পরশু পর্যন্ত মার কাছ থেকে পুরা বিষয়টা গোপন করে রেখেছি। কালকে মেজোবোন বললো, ‘তৃপ্তি আম্মু দোয়া করলে যদি বন্যা ভাল হয়ে যায়, চল আমরা আম্মুকে জানাই। গত দুইদিন আমার মার মুখের দিকে তাকানো যায় না। তার বড় মেয়ে, ১৮ বছর বয়সে তার মেয়ে হইসে। যখন সে নিজেই বাচ্চা…। সেই মেয়ের এই অবস্থা তো তার সহ্য হয় না। তাও এতো দূরে এখন!

tarokaloy_actress_shabnam_faria

আমরা আসলে কাছের মানুষদের উপরই বেশি অভিমান করি, কষ্ট পাই, রাগ করি। আর সম্ভবত সেজন্যেই তারা কাছের মানুষ! দূরের মানুষের সাথে আর কিসের রাগ! কিন্তু কিছু ঘটনা আসে, তখন বুঝতে পারি আমাদের জীবনে তারা কত স্পেশাল, তাদের আমরা কত ভালবাসি, তারা কত কিছু করে আমাদের জন্য…।

সবার কাছে একটা অনুরোধ, আপনার দোয়ার সময় আমার বড় আপুর কথা একটু স্মরণ করবেন। ঢাকায় বসে আসলে দোয়া করা বা দোয়া চাওয়া ছাড়া আমাদের কিছু করার নাই।’

Previous ArticleNext Article