Uncategorized, সেলিব্রিটি বার্তা

জীবন অনেকটাই যাযাবরের মতো- আঁখি আলমগীর

নিজের জীবনকে সরাসরি ‘যাযাবরের’ সাথে তুলনা করে ফেসবুকে নিজের মনের কথা দিয়েছেন সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। গানের জন্য তার সম্পূর্ণ সময় উজাড় করে কাটিয়ে দিচ্ছে। তবে তিনি গানের ফাঁকে ফুকে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেন। মাঝেমধ্যে স্মৃতিকাতর হয়েও নিজের মনের অনুভূতি শেয়ার করেন ফেসবুকে। এই যেমন ফুল, কে না ভালোবাসে? কিন্তু ভালোলাগার এই বিষয়টি যে কত গভীর থেকে উঠে আসে, সেটা বোঝালেন আঁখি।

Tarokaloy_ankhi_alamgir

তিনি নানা সময়ের মধ্যে অনেক রকম স্ট্যাটাস তো দিয়ে থাকেন তার মধ্যে গেলো তিন দিন আগে অর্থাৎ ২৬ তারিখে লম্বা একটি স্ট্যাটাস আপডেট করেন এবং সেখানে বলেনঃ আমার বাগানের খুব শখ। সময়-সুযোগের জন্য কেন যেন বাগানটাই করা হলো না। অথচ আমার শিশুবেলা কেটেছে নানা রকমের ফল, ফুল, সবজির বাগানে। তেজগাঁও স্টেশন রোড ছিল দাদার বাড়ি। বিশাল জমির ঠিক মাঝখানে এল শেপের দোতলা বাড়ি। হরেক রকমের ফলগাছের জন্য দিনের বেলায় যা বাগানবাড়ি বলে মনে হতো, রাতেই হয়ে যেত তা ভূতের বাড়ি। ছোটবেলায় কতবার যে ভূতের ভয় পেতাম আর দৌড়ে পালাতাম, এখন বুঝি সব ছিল বাতাসে দোল খাওয়া গাছের ছায়া। ছায়া দেখে ভয় পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু কখন যেন ছায়ার ছন্দ আমি ধরে ফেলেছি বুঝিনি, সাথে সুর।

Tarokaloy_ankhi_alamgir

ছোট বেলার কথা আর একটু যোগ করে লিখেছেন, আমার গান, আমার নাচ ছোটবেলা থেকেই অপ্রতিরোধ্য। বাড়িতে আসা যেকোনো মেহমানের জন্য চা নাশতার সাথে আমার গানের ফ্রি পরিবেশনা। সবাই বলত এই মেয়ে নিশ্চয়ই বড় অভিনেত্রী হবে। খুব রাগ হতো, শুনলাম গান, বলে অভিনেত্রী হবে। তার মানে গানটা ভালো হলো না? মন খারাপের সাথে জেদ চেপে যেত। ভোর ৫টায় উঠে প্র্যাকটিস করতাম, ৭টায় স্কুলে যেতাম। এর পরেও মাত্র একটি ছবিতে (ভাত দে) অভিনয় করেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে যাই আর সবার আমার গানটাকে পাশ কাটানোর ব্যক্তিগত তাগিদের আগুনে যেন নতুন করে ঘি ফেলা হয়। তবু থামিনি, অতঃপর আমি আজকের কণ্ঠশিল্পী। এটাই আমার প্রফেশন, পরিচয়। এবং অবশেষে আমি গানেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করি।এখনো চলছি, চলব- ইচ্ছা এমনটাই আছে।

Tarokaloy_ankhi_alamgir

তিনি তার স্ট্যাটাসটি তে আরো বলেন- অনেক অনেক গল্প, অভিজ্ঞতা, সাহসিকতা আর ভ্রমণে ভরা আমার জীবন অনেকটাই যাযাবরের মতো, যার ঘর পালানোর পরেই আবার ঘরে ফিরে আসতে ইচ্ছা হয়। আমার ঘর আমাকে টানে। বাগান নেই, কিন্তু ফুলের মালিক আমি এর পরেও হয়েছি। দুটো ফুটফুটে অসম্ভব ভালো মেয়ের মা আমি। ওরা এতটাই আমাকে মুগ্ধ করেছে, সুরভিত করেছে যে ঐ বাগান না হওয়ার কষ্ট কিছুটা হলেও কমেছে। এর পরেও বাগানপ্রেমী আমি সব কিছুতেই ফুল খুঁজি। আমার ঘরের প্রতিটি কোনায়, বিছানার চাদরে, খোঁপায়, শাড়িতে এমনকি মোবাইলের কাভারে ফুল আছেই কোনো না কোনোভাবে। হয়তো কখনো এক টুকরো জমি হবে, তখন গাছ হবে, ফুল হবে, ওরাই আমাকে খুঁজে নেবে।

Tarokaloy_ankhi_alamgir

তিনি সে সাথে তিনি তার ভক্ত এবং ফ্যানসদের উদ্দেশে বলেন, যারা বাগান করেন তাদের বলছি- সবার বাগান আরো সুন্দর হোক, সুরভিত হোক, জীবন হোক পরিপূর্ণ। মাঝে মাঝে আমাকে ছবি তুলতে বেড়াতে আসতে দিলেই আমি খুশি।

Previous ArticleNext Article