Uncategorized, সাজগোজ

চুল লম্বা করার সহজ উপায়

চুল সৌন্দর্যের একটি অংশ। আর তা যদি হয় ঘন লম্বা চুল তাহলে তো কথাই নেই। সুন্দর একরাশ ঘন কালো চুল, সব মেয়েদেরই পছন্দ। কিন্তু সময়ের অভাবে চুলের যত্ন নেওয়া হয়ে ওঠে না, ফলে ঘন লম্বা চুলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। অনেকেরই ধারণা চুল বড় করতে, ভালো রাখতে দামি প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হয়। এটা খুব ভুল ধারণা! বাজারের দামি দামি প্রোডাক্ট চুল ভালো রাখতে বা বড় করতে সেভাবে কাজে আসে না! বরং চুল বাড়াতে চাইলে আপনাকে জানতে হবে কিছু পদ্ধতি। কিছু ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললেই কম সময়ে আপনার চুল হয়ে উঠতে পারে লম্বা। চলুন জেনে নেয়া যাক,

মাথার তালু ম্যাসাজ: গাছ বড় হওয়ার ক্ষেত্রে যেমন ভালো মাটি লাগে, তেমন মাথার তালু বা স্ক্যাল্প ছাড়া চুল ভালো হয় না। তাই স্ক্যাল্প হেলদি রাখতে ম্যাসাজ খুব জরুরি। চুল বৃদ্ধির একটি সহজ উপায় হল, মাথার তালু ম্যাসাজ। এটি আপনার মাথার ত্বকে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে তুলবে, চুলের গোড়া শক্ত করবে।

জট ছাড়ান: আপনার চুল যত লম্বা হবে ততই চুলে জট পড়ার পরিমাণ ও বাড়বে। নিয়মিত স্নান করার পরে চুলের জট যদি না ছাড়ান তা থেকে চুল হতে পারে ক্ষতিগ্রস্থ। অনেকে ব্যস্ততার ফলে তাড়াহুড়োয় চুল ভেজা থাকা অবস্থাতেই চুল আঁচড়াতে থাকেন। এতে চুলে জট পড়ে এবং চুল উঠতে শুরু করে। তাই চুল শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন তারপরেই চিরুনি দিয়ে আস্তে আস্তে জট ছাড়িয়ে নিন। এতে চুল রুক্ষ ও জট হবে না।

সব সময় চুল বেঁধে রাখবেন না: লম্বা চুল সহজে ম্যানেজ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হল চুল বেঁধে রাখা। অনেকেই তাই সর্বক্ষণ চুল খোঁপা করে রাখেন বা শক্ত করে চুলে ঝুঁটি বেঁধে থাকেন। তবে টেনে টেনে খোপা করলে বা শক্তভাবে চুল বাঁধলে চুল হয় ক্ষতিগ্রস্থ। সেইসঙ্গে সর্বক্ষণ চুল যদি থাকে বাধা তবে চুলের গোড়ায় জমে ঘাম। এর থেকে চুল ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই চুল বাঁধলে দিনে কিছুটা সময় ফ্যানের তলায় দাঁড়িয়ে বা প্রাকৃতিক হাওয়াতে চুল শুকিয়ে নিতে ভুলবেন না এবং চুল বাধার সময় খেয়াল রাখবেন যাতে বেশি চাপ না পড়ে চুলের গোড়ায়।

চুল ট্রিম করে বা ছেঁটে নিন: চুল বাড়াতে অনেক সময় লাগে, কে আর তা ছেঁটে ছোট করে ফেলতে চায়? কিন্তু চুল তাড়াতাড়ি লম্বা করতে চাইলে এই অপছন্দের কাজটি আপনাকে করতেই হবে৷ ছয় থেকে আট সপ্তাহ অন্তর চুল ট্রিম করালে ফাটা ডগার হাত থেকে আপনি মুক্তি পাবেন এবং তা তাড়াতাড়ি বাড়তে আরম্ভ করবে। চুল ধোয়া: চুল ধোওয়ার কাজে ব্যবহার করুন ঠান্ডা পানি শ্যাম্পু আর কন্ডিশনারের নিয়মিত রুটিন সারা হয়ে গেলে চুল খানিকক্ষণ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখার ব্যবস্থা করুন৷ এতে চুল থেকে বাড়তি আর্দ্রতা উড়ে যাবে না, কিউটিকলগুলি সিল হয়ে যাবে৷ চুল ধোওয়ার সময়েও খুব গরমপানি ব্যবহার না করারই পরামর্শ দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে চুল শুকনো ও দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এছাড়াও সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে আপনার চুলেরও কিন্তু খুব আদর-যত্ন আর ভালোবাসার প্রয়োজন, তাই সঠিক ভিটামিন খেতে হবে৷ দোকানে যে সব ভিটামিন কিনতে পাওয়া যায়, তার মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডান্ট আর ভিটামিন বি সমৃদ্ধ যেগুলি, সেগুলি চুলের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে৷ বায়োটিনের মতো সাপ্লিমেন্ট অটুট রাখে চুলের স্বাস্থ্য৷

Tarokaloy_hair_care

চুলে হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা: চুল ভালো রাখার জন্য ধরন বুঝে হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন। চুল তৈলাক্ত, শুষ্ক বা মিশ্র হলে ১০ থেকে ১৫ দিন পরপর চুলে প্যাক লাগান। অবশ্য ধরন বুঝে চুলে প্যাক লাগান, ঘরে তৈরী প্যাক চুলের সুরক্ষায় বেশি কার্যকরী ।

সঠিকভাবে শ্যাম্পু করা: বাইরে বের হলে চুলে প্রচুর ধুলোবালু আর ময়লা চুলে জমে থাকে। তাই, চুল পরিষ্কারের জন্য চুলের ধরন বুঝে ভালো মানের শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন । শ্যাম্পু করার সময় ভালো করে মাসাজ করে শ্যাম্পু করুন। চুলে বেশি ময়লা থাকলে দুইবার শ্যাম্পু করুন। সপ্তাহে ৩/৪ দিন ভালো শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন।

Tarokaloy_Hair_care

অতিরিক্ত হিট দেওয়া থেকে বিরত থাকা : তাপ চুলকে ভেঙে যেতে সহায়তা করে আর তাই চুলে হিট দেওয়া থেকে বিরত থাকাই উত্তম। অতিরিক্ত হিটের কারণে চুল জ্বলে যেতেও পারে তাই ব্লোয়ার, আয়রন অথবা চুল স্ট্রেটনার যদি ব্যবহার করতেই হয় তাহলে সাবধানতার সাথে তা করা উচিত।

Tarokaloy_hair_care

তেল ব্যবহার করা: চুলে তেল ব্যবহারে করলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। কিন্তু নিয়মিত অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে যা চুলের জন্য ভালো নয়। তাই নিয়ম মেনে সঠিক উপায়ে তেল ব্যবহার করুন। ভালো মানের নারিকেল তেল চুলের জন্য কার্যকরী।

হট অয়েল মাসাজ করা : চুলের পরিপূর্ণ পুষ্টি যোগাতে অয়েল মাসাজের বিকল্প নেই। আজকাল কোকোনাট অয়েল ছাড়াও বাজারে আমলা অয়েল, আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যায়। চাইলে এগুলো একসাথে মিক্স করেও চুলে লাগাতে পারেন। তবে সঠিকভাবে হট অয়েল মাসাজ করলে চুলে পরিপূর্ণ পুষ্টি পায়।

Previous ArticleNext Article