Uncategorized, সেলিব্রিটি বার্তা

আমার কবর টা যেনো বাবার কবরেই হয়।

শুধু বাবা দিবস এলেই যে আব্বাকে মনে পড়ে আমার কাছে বিষয়টি কিন্তু মোটেও এমন নয়। আমার জীবন পুরোটা জুড়ে জড়িয়ে আছেন আমার আব্বা। অনেকই বলেন, আমি নাকি আমার আব্বার আদর্শে বেড়ে উঠেছি; কিন্তু আদৌ কি আমি আব্বার আদর্শে বেড়ে উঠতে পেরেছি? এই প্রশ্নটি আমার নিজের কাছেই নিজের করে থাকি।

tarokaloy_actress_babita

আমার বিয়ের যখন মাত্র চার মাস শেষ হয় তখনই আমার আব্বা এএসএম নিজাম উদ্দিন আতাইয়ুব মৃত্যুবরণ করেন। যে কারণে মানসিকভাবে সেই সময় অনেক ভেঙে পড়েছিলাম। বাবাকে ঘিরে প্রত্যেক সন্তানেরই অনেক স্মৃ’তি থাকে। আব্বা সবসময় আমাদের নিয়ে বেশ সময়সূচি মেনে চলার প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন। আমাদের ছয় ভাইবোনকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাসায় ফেরার কথা বলতেন। আমার জীবনের সাফল্যের মূলমন্ত্র কিন্তু তার কাছ থেকেই পাওয়া।

tarokaloy_babita_and_her_sisters

এই যে দেখছেন আমাকে আমি কতো পরিপাটি থাকি। এত পরিপাটি থাকি, গুছিয়ে থাকার চেষ্টা করি, এটি তার কাছ থেকেই পাওয়া। তিনি যখন অফিস থেকে আসতেন তখন আম’রা সবাই তাকে পান বানিয়ে খাওয়াতাম। তিনি তখন বেশ আয়েশ করে পান খেতেন। তার পা টিপে দিতে দিতে তখন সব আবদার করতাম। তিনি আমাদের সেই আবদার গুলো শুনতেন এবং রাখতেন।

tarokaloy_actress_babita

আব্বা অনেক সিনেমা দেখতে পছন্দ করতেন। সিনেমা দেখে দেখে আমাদের মজার মজার গল্প বলতেন এবং সেসব গল্পে তিনি আমাদের অভিনয় করে দেখাতে বলতেন। সেখান থেকেই কিন্তু আমরা অভিনয়ে আসার অনুপ্রেরণা পাই। পরবর্তী সময়ে যখন আমি সিনেমার নায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করি, তখনও তিনি আমাকে অনেক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিতেন।
সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের আগে আব্বাই সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে চিঠি আদান-প্রদান করতেন ইংরেজিতে। শুটিংয়ের সময় সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তার চমৎকার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। আমার ইংরেজি শেখার খুব শখ ছিল বলে আব্বা আমাকে ছোটবেলায় একটি ডিকশনারি কিনে দিয়েছিলেন। আমি তখন প্রথম শ্রেণিতে পড়ি। আমরা তখন বাগেরহাটে থাকি।

tarokaloy_babita_and_her_sisters

একদিন আমাকে রেখে সবাই মামারবাড়ি যাবে বেড়াতে। আমি বুদ্ধি করলাম কীভাবে আব্বাকে রাজি করানো যায়। তিনি সন্ধ্যা দিকে বাসায় ফেরার সময় আমিই হারিকেন নিয়ে তাকে এগিয়ে আনতে গেলাম। আমাকে দেখে তিনি ভীষণ খুশি, কারণ তখন বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকারে আব্বাকে এগিয়ে আনতে গিয়েছিলাম। তিনি তখন খুশি হয়ে বললেন কী’ চাও মা? আমি বললাম আমাকেও মামা’রবাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে। তিনি রাজি হলেন। আব্বাই আমার জীবনের আদর্শ। তাই আমার ইচ্ছা আমার মৃত্যুর পর যেনো বনানী কবরস্থানে আমার বাবার কবরেই যেন আমাকে দাফন করা হয়।

Previous ArticleNext Article