সাজগোজ

কিভাবে ন্যাচারালি টি-জোনের তেল নিয়ন্ত্রণ করবেন?

কোনটি গরমের দিনে সবচেয়ে কমন সমস্যা যা আমরা ভুক্তভোগী বা অন্যান্য দিনেও? তা হল টি-জোনের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ। বিশেষ করে যাদের অয়েলি স্কিন তারা কিশোর বয়স থেকে প্রাপ্ত বয়স পর্যন্ত বা সারাজীবন এর ভুক্তভোগী হয়ে থাকে। শুধু অতিরিক্ত তেল নিঃসৃত হয় তাই নয় সাথে ব্রন ও ব্ল্যাকহেডস তো আছেই। আর এটা হয় টি-জোনের(t-zone) জন্য। কপাল থেকে নাক পর্যন্ত এড়িয়াকে টি-জোন বলে।
টি-জোনে চর্বিযুক্ত গ্রন্থির অবস্থান বেশি থাকায় তেল বেশি নিঃসৃত হয়। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে কিছু ভালো টিপস বা টেকনিক আছে তা যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।

১. স্কিনের পোরস পরিষ্কার রাখা। এটা করবেন একটি ভালো মানের ক্লিনজার দিয়ে যাতে আছে পিএইচ ব্যালেন্স, যা মুলত তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তৈরি । যারা সারা বছর শুষ্ক ত্বক আর গ্রীষ্মকালে তৈলাক্ত টি-জোন(t-zone) নিয়ে ভোগান্তির মধ্যে থাকেন, তারা অয়েলি স্কিন ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন গ্রীষ্মকালে পরবর্তীতে অন্য বাকি সময় ড্রাই স্কিন ফেসিয়াল ফোম ব্যবহার করতে পারেন।
আপনি চন্দনের আর ময়দার পেস্ট বানিয়ে আলতো ভাবে মুখে ব্যবহার করতে পারেন যা ন্যাচারাল অয়েল কন্ট্রল ফেস ওয়াশ হিসেবে কাজ করবে।

 

২. দিনে কমপক্ষে ৩-৪ বার মুখ ধুবেন, বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর। কারন আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন আপনার শরীর একটানা তেল নিঃসৃত করতে থাকে বিশেষ করে টি-জোন। কিন্তু যাদের অতিরিক্ত তেল বের হয় তাদের ৩-৪ বার মুখ ধুলে চলবে না ৭-৮ বার ধুতে হবে।

 

৩. স্কিন সতেজ রাখতে টোনার ব্যবহার করতে পারেন। গোলাপ জল যা স্প্রে বোতলে সংগ্রহ করে যখন তখন মুখে স্প্রে করে অয়েলি ভাব দূর করতে পারেন। এছাড়াও ৪ ফোটা পুদিনা বা মেনথল অয়েল ১/২ কাপ পানিতে মিশিয়ে অয়েল কন্ট্রল টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। কটন পেড বা তুলা দিয়ে টোনার টি মুখে লাগাতে পারেন। আপনি চাইলে এটিকে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে ব্যবহার করতে পারেন বিশেষ করে টি-জোনে।

৪. বানাতে পারেন অরগানিক ঘরোয়া ভেজিটেবল বা ফ্রুট টোনার যা বানানো হয় লেবু জাতীয় ফলের রস, সব্জির মধ্যে টমেটো ও শশার জুস দিয়ে। যত বেশি ন্যাচারাল ক্লিনজার ব্যবহার করবেন তত বেশি আপনার স্কিন ন্যাচারালি ময়শ্চারকে লক করে অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করবে এবং ত্বককে হাইড্রেটেড রাখবে। তাই এখুনি রুটিন করে নিন আপনার ক্লিনজিং প্রক্রিয়া ঘরোয়া প্রাকৃতিক টোনার দিয়ে।

 


৫. স্ক্রাব বিশেষ করে ঘরে বানানো গুলো তেল নিয়ন্ত্রণে আলৌকিক ভাবে কাজ করে এবং পোরস গুলোকে পরিষ্কার রাখে। এই স্ক্রাবিং অবশ্যই তেল নিয়ন্ত্রণের জন্য হতে হবে কেননা ভিন্ন ভিন্ন স্ক্রাব ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করে। কাজুবাদাম ভালো করে রোদে শুকিয়ে এর গুড়ো করে নিন এর এরপর ১/২ চা চামচ কাজুবাদাম গুড়ো আর ১/২ চা চামচ মধু নিয়ে পেস্ট বানিয়ে স্ক্রাবার হিসেবে আপনার টি-জোনে ৫ মিনিট স্ক্রাব করুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এতে করে পোরস ওপেন হবে। সাথে সাথেই ঠান্ডা পানি দিয়ে আবার মুখ ধুয়ে নিবেন এতে করে পোরস গুলো বন্ধ হয়ে যাবে।


৬. যখনই সম্ভব ফেসিয়াল স্টিম করার চেষ্টা করবেন কমপক্ষে সপ্তাহে এক দিন। একটি বোলে গরম পানি নিন মনে রাখবেন অতিরিক্ত গরম পানি নিবেন না। এরপর বোলের সামনে মুখ রেখে টাওয়াল দিয়ে মাথা ঢেকে দিন। এরপর গরম পানির ভাপ বা স্টিম নিন ২-৪ মিনিট। এরপর স্ক্রাবার ব্যবহার করে মুখ ধুয়ে ফেলুন কুসুম গরম পানি দিয়ে যেন ওপেন পোরস ভালো ভাবে ক্লিন হয়ে যায় সাথে সাথে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে আবারও মুখ ধুয়ে নিবেন এতে পোরস গুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

 

৭. অবশ্যই ওয়াটার বেইজ মেট ফিনিস মেকআপ ব্যবহার করবেন। ভুলেও অয়েল বেইজ বা লোশন বেইজ মেকআপ ব্যবহার করবেন না। মুখে ময়শ্চারাইজার বা লোশন এড়িয়ে চলুন যদি আপনার ফেস সবসময় অয়েলি হয়ে থাকে। যখনই আপনি বাইরে যাবেন ব্যবহার করুন ওয়াটার বেইজ বা জেল বেইজ সানস্ক্রিন। প্রয়োজন হলে ফেস ওয়াশ বা যে কোন ক্লিনজার সাথে নিয়ে বের হবেন এবং ৪-৫ ঘন্টা পর পর মুখ ধুয়ে নিবেন। সানস্ক্রিন ব্যবহার এর পর সাথে ফেস পাউডার বা কমপেক রাখবেন ফেস ও টি-জোনে হালকা ড্রাই ভাব আনতে।

 

তারকালয়/২০ /০৯/১৮/রুপা

Previous ArticleNext Article