সাজগোজ

এই গরমে চুলের পরিচর্যা!

চুলের সৌন্দর্যের মাধ্যমেই দেহের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলে। শরীরের পুষ্টির মান কতটুকু নির্দেশ করে চুল। মাথা চুল বেশি থাকলে রোদ থেকে মাথার ত্বক সুরক্ষিত থাকে। চুল যদি এমন হয় তাহলে এখনি এর যত্ন নেওয়া শুরু করুন। সময় পার হয়ে গেলে চুলের সাথে সৌন্দর্য ও হারাবেন। যত্নের অভাবে চুলে ও মাথায় দেখা দিতে পারে খুশকি, উকুনসহ নানান সমস্যা। তাই চুলের জন্য চাই পুষ্টিকর খাবার এবং সঠিক পরিচর্যা।

ছয় ঋতুর দেশ কিন্তু মনে হয় গরম আর বর্ষা সারা বছর লেগেই থাকে। সব মিলিয়ে মৌসুমটি মোটেও আরামে যায় না এর সাথে ত্বক ও চুলের জন্য বেজায় ক্ষতি তো রয়েছেই। চুলের যত্নে না জানি কত প্যাক ও প্রডাক্ট ব্যবহার করছেন! নিয়মিত যত্ন ও পরিচর্যা ছাড়া এসব হেয়ার ট্রিটমেন্ট কোনো কাজেই আসবে না। রুক্ষ বা তেলের চটচটে ভাব সব মিলিয়ে স্কাল্পের এবং চুলের বারোটা বাজে যায়। উপায় একটাই, সঠিক যত্ন পরিচর্যা এবং সাবধানতা।

শ্যাম্পু করা সপ্তাহে অন্তত তিন দিন

এ সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। আর এতে মাথার ত্বক ঘেমে প্যাচপ্যাচ অবস্থা, ফলে দেখা দেয় ব্যাকটেরিয়া সহ স্কাল্পের নানান সমস্যা। যা চুল ও মাথার ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এজন্য অনেকেই প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করে থাকেন। কিন্তু প্রতিদিন শ্যাম্পু করার ফলে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয় স্কাল্প ড্রাই করে দেয়। এই তেল চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই প্রতিদিন নয়, সপ্তাহে চুল পরিষ্কার করার জন্য তিন দিন শ্যাম্পুই করাই যথেষ্ট।

 

স্ক্যাল্প মাসাজ

চুলের শ্যাম্পু কোনো রকম শ্যাম্পু করেই আমরা চুল ধুয়ে ফেলি। অথচ এটা চিন্তা করিনা, স্কাল্প কি সঠিকভাবে পরিষ্কার হয়েছে কি না? চুলে শ্যাম্পু তো করাই হয়। চুলের সমস্যার শুরু হয় মাথার ত্বক থেকেই। মাথার ত্বক ভালো থাকলে চুল ও ভালো থাকবে। তাই মাথার ত্বক অর্থাৎ স্কাল্প পরিষ্কার রাখা খুবই দরকার। অবশ্যই মনে করে সপ্তাহে অন্তত এক দিন চুলে শ্যাম্পু করার সময় স্কাল্প বা মাথার ত্বক ভালোভাবে মাসাজ করে ধুয়ে নিবেন।

 

কন্ডিশনারের ব্যবহার

চুলে শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন। তা না হলে মৌসুমি আবহাওয়া বিভিন্ন ভাবে চুলকে শুষ্ক করে তোলে। তাই শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার বাইরে দূষণ থেকে চুলকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

 

চুল সঠিকভাবে মুছতে হবে

ভেজা চুল বেশিক্ষণ রাখা যাবে না, তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে রাখার অভ্যাস প্রায় সব মেয়েরই আছে। তাই এই অভ্যাস বদলান কেননা, এর ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসে সংক্রমণ হতে পারে। তাই ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে না রেখে ভালোভাবে মুছে বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে। তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে মুছে নিবেন। মনে রাখবেন তোয়ালে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ঘষে ঘষে চুল মুছতে যাবেন না এতে চুলের অনেক ক্ষতি হয়। চুল রুক্ষ ভঙ্গুর হয়ে যায়।

 

ভেজা চুল আঁচড়ানো ও বাঁধা যাবে না

একইভাবে ভেজা চুল কখনই আচড়াতে যাবেন না বা বাঁধতেও যাবেন না। ভিজে চুল বেঁধে রাখলে চুলের গোড়া নরম হয়ে আলগা হয়ে চুল পড়া, খুশকি হওয়া সহ চুলে গন্ধ হওয়ার মতো ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

চুলে তেলের নিয়মিত ব্যবহার

প্রতিদিন চুলে তেল দিতে হবে এমনটা কোথাও বলা নেই। তবে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝলমলে রাখার জন্য সপ্তাহে অন্তত এক দিন চুলের গোড়ায় এবং পুরো চুলে তেল লাগাতেই হবে। চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও ভঙ্গুর হলে ২-৩ দিন পরপর তেল ম্যাসাজ করা ভালো। গরম অথবা শীত সবসময় চুলের যত্ন নেওয়া জরুরী। কেননা চুলের যত্ন নিলেই চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারবেন। আর যত্ন না নিলে সময়ের আগেই চুল পড়া থেকে চুলের সমস্যা দেখা দেয়।

 

তারকালয়/১৮/০৯/১৮/রুপা

Previous ArticleNext Article