সাজগোজ

সৌন্দর্য রক্ষায় গোলাপ জলের নানান ব্যবহার! 

প্রাচীনকাল থেকেই পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের অন্যতম উপাদান হিসেবে গোলাপজল ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় স্বীকৃত একটি ওষুধ। ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গোলাপজল প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিসহ ত্বকের ইনফেকশন দূর করার ক্ষমতাও রয়েছে। ত্বকের সুরক্ষায় প্রতিদিন রূপচর্চায় গোলাপজল রাখা অনেক কার্যকরী। এতে ত্বক থাকবে সুন্দর। আসুন, জেনে নেই কিভাবে সৌন্দর্য চর্চায় গোলাপ জলের নানান ব্যবহার। 
 

 

 

১. ত্বকের যত্নে : 
 
রোদে পোড়া দাগ এবং ত্বকের অ্যালার্জি দূর করতে গোলাপজল 
 
গোলাপজলের রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করে। অনেকে রোদে পোড়ার জন্য ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যায় পড়েন। তাদের জন্যও গোলাপজল বেশ উপকারী। গোলাপজল ও পানি দিয়ে প্রতিদিন ২ বার মুখ ধুবেন এতে আপনার অ্যালার্জির সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন। 
 
 


ফেশিয়াল টোনার  
 
গোলাপজল ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে তা তুলা ভিজিয়ে পুরো মুখে লাগান। গোলাপজল মুখের লোমকূপ বন্ধ করতে সাহায্য করে যার ফলে মুখে ব্রণের সমস্যা থাকে না। তাই নিয়মিত টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন গোলাপ জল। যা আপনার ত্বককে দিবে শীতল অনুভূতি। 
 
 

ব্রণের সমস্যাও দূর করে গোলাপজল 
 
গোলাপজলে আছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ব্রণের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে। সেক্ষেত্রে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচমাটি ও ১ টেবিল চামচ গোলাপজল মিশিয়ে তা পুরো মুখে দিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানির ঝাপটায় মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার লোমকূপ পরিষ্কার হবে, মুখের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দূর হবে এবং ব্রণের সমস্যা কমে যাবে। 
 
 
 
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে গোলাপজল 
 
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে গোলাপজলের জুড়ি নেই। গোলাপজল ত্বককে উজ্জ্বল করে ত্বকে আনে গোলাপি আভা। সব চাইতে ভালো ফল পেতে ত্বকে রাতে গোলাপজল লাগান। এছাড়াও একটি পাত্রে ২ টেবিল চামচ বেসন আর তার সাথে গোলাপজল ও লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়ে গেছে। 
 
 

 

২. চোখের যত্নে : 
 
দুটো তুলোর বল গোলাপজলে ভিজিয়ে চোখের উপর দিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এতে করে খুব সহজেই চোখের ডার্ক সার্কেল, চোখের ফোলাভাব দূর করতে পারবেন। 
 
 
 

৩. চুলের যত্নে : 
 
গোলাপ জলের হেয়ার প্যাক  
 
মেথি পাউডার গোলাপজলে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে চুলের গোঁড়ায় ভালো করে লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর চুল ধুয়ে নিন। এতে করে চুলের গোঁড়া মজবুত হবে, মাথার ত্বকের নানা ইনফেকশন জনিত সমস্যা দূর হবে, চুল গজানোর হার বাড়বে এবং খুশকির সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।  
 
 

 চুলের কন্ডিশনার হিসেবে গোলাপজল 
 
চুলে শ্যাম্পু করার পর এক মগ পানিতে এক কাপ গোলাপজল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। গোলাপজল দেয়ার পর চুলে পানি লাগাবেন না। এভাবেই চুল মুছে শুকিয়ে ফেলুন। চুলকে গভীর থেকে কন্ডিশনিং এবং চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে গোলাপজলের ভূমিকা অনেক। 
 
 
 
তারকালয়/২৫/১০/১৮/রুপা

Previous ArticleNext Article