সাজগোজ

রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মেকআপ তুলে ফেলুন তা না হলে জেনে নিন কি ক্ষতি হতে পারে!

জীবনে মেকআপ কম বেশি সবাই ব্যবহার করে। বিভিন্ন জাঁকজমক পার্টির পর বা সারাদিনের কাজের ধকলের পর শরীর এতটাই ক্লান্ত থাকে যে অনেকেই মেকআপ না ধুয়েই শুয়ে পরেন। পরে সেই করা মেকআপ উঠে পরদিন সকালে ফলে ত্বকের ভেতরে কেমিক্যাল এর মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে স্কিনের মারাত্মক ক্ষতি করে। ত্বকের রোগ ছাড়াও বেশ কিছু স্থায়ী সমস্যা ও ক্ষতি হয়ে থাকে। জেনে নিন কি কি ক্ষতি হতে পারে!

• ত্বক ফাটা দেখা দেয়  সারাদিন এমনকি সারারাত মেকআপ ধরে রাখার কারনে ত্বকের পোরেস বা ছিদ্রের মধ্যে ধুলো-বালি, বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, কেমিক্যালের ক্ষতিকর উপাদানগুলো প্রবেশ করতে থাকে। তাই দিন শেষে ভালো করে মুখ না ধুলে এই সব ক্ষতিকর উপাদানগুলো আরও গভীরে প্রবেশ করে। এতে ত্বক ফাটা শুরু হয় সাথে ব্রন আর অ্যাকনে তো থাকবেই।

ত্বকে বার্ধক্য চলে আসে  বিশেষজ্ঞদের মতে দিন দিন পরিবেশ দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ত্বকের উপর এত মাত্রায় এর প্রভাব পরে যে বয়সের আগেই ত্বকের বয়স বাড়তে শুরু করে। সেরূপ মেকআপ এর ক্ষেত্রেও পুরোপুরি ধুয়ে না শুলেও এমন হয়ে থাকে। কারণ সারাদিন ধরে পরিবেশে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলো মেকআপের কারণে ত্বকে জমতে শুরু করে, যা এক সময়ে গিয়ে ত্বকের ভিতরে টক্সিক উপাদানের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয় ফলে বলিরেখা দেখা দেয়। ফলে ত্বকের বয়স কমতে সময় লাগে না। সময়ের আগেই বয়সের ছাপ পড়ে যায় চেহারায়। এতে নিজের কাছে নিজের খারাপ লাগে। সময়ের আগে বার্ধক্য না চাইলে অবশ্যই মেকআপ তুলে ফেলুন।

• স্কিনের ড্রাইনেস দেখা দেয়  মেকআপ না তুলে ঘুমানোর কারনে ত্বকের ময়শ্চারাইজ হারিয়ে যায় ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ ও ড্রাই। কম বয়সেই ত্বকের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটার কারণে সৌন্দর্য কমে যায় যা অবশ্যই কারো কাম্য নয়। মূলত ড্রাই স্কিনের জন্য নানান রোগের বিস্তার ঘটে আর হয়ে যায় বয়সের আগেই বুড়ো। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অবশ্যই ঘুমানোর আগে মেকআপ তুলে একটা ভালো মানের ময়শ্চারাইজার মুখে দিয়ে ঘুমান। তাহলে স্কিন ড্রাই ও হবেনা আর অল্প বয়সে বার্ধক্য ও আসবে না। সুতরাং সৌন্দর্য হারানোর ভয় নেই।


• ব্রন ও অ্যাকনে বেড়ে যায়  
আমাদের ত্বকে অসংখ্য পোরস বা ছিদ্র আছে যার ভিতর দিয়ে অক্সিজেন বা বাতাস চলাচল করে। সেই ছিদ্রের মধ্যে ধুলো জমে বা মেকআপ এর ডাস্ট জমে ছিদ্রের মুখ বন্ধ করে দেয়া যার ফলে ধুলো ময়লা থেকে ব্যাকটেরিয়া জন্মে সেই ছিদ্রগুলো ফুলে ব্রন ও অ্যাকনে আকার ধারন করে। ব্রন অ্যাকনে ও সিস্টের মত ত্বকের রোগ বেড়ে যায়।
এই ব্রন একবার হলে সারতেও অনেক সময় লাগে শুধু তাই নয় ব্রন সেরে গেলেও এর দাগ থেকেই যায়। ব্রন আর অ্যাকনের মত দানবের পরিত্রাণ পেতে অবশ্যই সবসময় ত্বক পরিষ্কার করে রাখবেন। মেকআপ না তুলে ঘুমাবেন না। যতটুকু সম্ভব হালকা মেকআপ করবেন।

• চোখের ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ দেখা দেয়  বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে অনেকক্ষণ মেকআপ করে থাকলে মুখের ইতিউতি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। ফলে তা থেকে চোখের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা যায় বেড়ে। আর যদি তা দীর্ঘস্থায়ী হয় তা অন্ধত্বের কারন বা চোখের পাওয়ার কমে যেতে পারে। সেইজন্য চোখের মেকআপ তুলে শুতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন । সুতরাং চোখের সংক্রমণ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই চোখের মেকআপ তুলে ঘুমাবেন আর যদি অনেক ক্লান্ত থাকেন, আর ওয়াশরুমে যেতে মন না চায়, তাহসে ওয়েট ন্যাপকিনের সাহায্যে একবার চোখ এবং মুখটা মুছে নেবেন। এমনটা করলেও কিন্তু কোনও ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

তারকালয়/১৮ আগস্ট,২০১৮/রূপা

Previous ArticleNext Article