সেলিব্রিটি বার্তা

ভারতীয় তরুণ অভিনেত্রী আলিয়া ভাট এর জীবনী!!! 

বলিউডে আলিয়া ভাট একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে তার অভিনয় কৌশল ও রূপ লাবণ্য দিয়ে। তিনি বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় তরুণ অভিনেত্রী। ভারতের সর্বোচ্চ বেতনযুক্ত অভিনেত্রীর মধ্যে একজন। ভারতের বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনে ২০১৪ সালে ফোর্বস ইন্ডিয়া’স ১০০ সেলিব্রিটি লিস্টে তার নাম তুলে ধরা হয়। 
 
 
 
 
আলিয়া ভাট ১৯৯৩ সালের ১৫ মার্চ ভারতের মুম্বইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক মহেষ ভাট এবং মা অভিনেত্রী সোনি রাজদান। আলিয়ার মা মুসলিম ধর্মাবলম্বী এবং বাবা হিন্দু ধর্মালম্বি ছিলেন, তবে তাদের বিবাহের সময় তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নেন। মায়ের দিক থেকে আলিয়া কাশ্মীরি-জার্মান বংশপরিচয়ধারী এবং বাবার দিক থেকে, তিনি মূলত গুজরাটি বংশদ্ভুত। তার বোন হলো শাহীন ভাট এবং সৎ বোন পূজা ভাট যিনি একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও নির্মাতা, এবং সৎ ভাই চলচ্চিত্র অভিনেতা রাহুল ভাট। অভিনেতা ইমরান হাশমী ও চলচ্চিত্র পরিচালক মোহিত সুরি তার চাচাতো ভাই এবং প্রযোজক মহেষ ভাট তার চাচা হন। আলিয়া ২০১১ সালে মুম্বইয়ের জামাবাই নার্সী বিদ্যালয় (আইবিডিপি) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। 
 
 
 

 
আলিয়া ভাটের রূপালী পর্দায় অভিনয়ের সূচনা ঘটে ১৯৯৯ সালে শিশুশিল্পীর ভূমিকায়, তানুজা চন্দ্র পরিচালিত সংঘর্ষ নাট্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এই চলচ্চিত্রে ভাটের সহ-অভিনয়শিল্পী ছিলেন অক্ষয় কুমার ও প্রীতি জিন্তা, যেখানে আলিয়া ভাটের প্রীতি জিন্তার শৈশব চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে প্রায় ₹৫0 মিলিয়ন রুপি (US$৬,৯৫,৭৩০) আয় করে। 
 
 
 
 
আলিয়া চলচ্চিত্রে সর্বপ্রথম প্রধান চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করেন ২০১২ সালে। সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও বরুণ ধবনের বিপরীতে করন জোহর পরিচালিত স্টুডেন্ট অব দ্যা ইয়ার চলচ্চিত্রে। এ চলচ্চিত্রে তিনি শানায়া সিংহানিয়া চরিত্র ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রে শানায়া একজন অত্যাধুনিক কিশোরী, যিনি ধাওয়ান চরিত্রের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হন আবার অন্য চরিত্র মালহোত্রার প্রতিও এক পর্যায়ে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। আড়ম্বরপূর্ণ, অভিজাত, আরিফ রূপালী চামচ মুখে জন্মগ্রহণকারী, যে কিনা শুধু তার পোশাক ব্যাগ জাঁকালভাবে প্রদর্শন করতে পছন্দ করে আর ভালোবাসে ঐশ্বর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে। অত্যন্ত বিচ্ছুরিতভাবে, আলিয়া একটি অতি-আত্মবিশ্বাসী চরিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন।”[১৮] হিন্দুস্তান টাইমসের চলচ্চিত্র সমালোচক অণুপমা চোপড়া কাপুর চরিত্রের সঙ্গে ভাটের সাদৃশ্য উল্লেখ করেছেন শুধুমাত্র তার “অভিঘাতী মনোভাব ব্যতীত”।[১৯] স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার ছিল একটি বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্র যা ২০১২ সালে বক্স অফিসে প্রায় ₹৭০০ মিলিয়ন (৯.৭৪ মিলিয়ন US ডলার) আয় করে। 
 
 
 
 
২০১৪ সালে, আলিয়া ভাটের তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তির মধ্য দিয়ে তিনি বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেন। ২০১৪ সালে তিনি রণদীপ হুদার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ আলী পরিচালিত “হাইওয়ে” পথচলচ্চিত্রে স্টকহোম সিনড্রোমে আক্রান্ত একটি কিশোরীর চরিত্রে আলিয়ার অভিনয় চলচ্চিত্র সমালোচকদের নিকট ইতিবাচক মন্তব্য লাভ করে। চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হলেও 
আলিয়া শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য ফিল্মফেয়ার সমালোচক পুরস্কার জিতেছেন এবং একই অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্যও মনোনয়ন পেয়েছেন।  
 
 
 

মার্চ ২০১৪ সালে, করন জোহর ও সাজিদ নাদিরওয়ালার যৌথ প্রযোজনায় অর্জুন কাপুরের বিপরীতে “২ স্টেটস” রোমান্টিক নাট্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন আলিয়া। এখানে তিনি স্বামীনাথম নামে একটি তামিল মেয়ের চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে আলিয়া তামিল ভাষা শিখেছেন।সমালোচকরা তার অভিনয়ের জন্যে প্রশংসা প্রকাশ করে বলেছিলেন আলিয়া “সত্যিই তার অভিনয় অসাধারণ”। চলচ্চিত্রটি শীর্ষ আয়কারী প্রযোজনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা বিশ্বব্যপী ₹১.৭ বিলিয়ন রুপি (২৩.৬৫ মিলিয়ন US ডলার) আয় করেছিল। 
 
 
২০১৪ সালে বরুণ ধাওয়ানের বিপরীতে শশাঙ্ক খৈতান পরিচালিত রোমান্টিক কমেডি “হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া” চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এই চলচ্চিত্রে একটি পাঞ্জাবী মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই চলচ্চিত্রটি করন জোহর প্রযোজিত দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে চলচ্চিত্রের সাথে মিল রয়েছে। এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য ফিল্মফেয়ার সমালোচক পুরস্কার লাভ করেন এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য মনোনীত হন। তার এ সকল সাফল্য ২০১৪ সালে তাকে বক্স অফিস ইন্ডিয়া, বছরের শীর্ষ বলিউড অভিনেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়াও ২০১৪ সালে বিকাশ ভাল পরিচালিত নারীদের নিরাপত্তা বিষয়ক “গোয়িং হোম” নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন আলিয়া। 
 
 

 

২০১৫ সালে শাহিদ কপুরের বিপরীতে বিবেক ভাল পরিচালিত “শানদার” চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন আলিয়া। যেখানে তিনি একজন অনিদ্রারোগীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। তিনি অভিষেক চৌবে পরিচালিত “উড়তা পাঞ্জাব” থ্রিলার চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, যেখানে সহ তারকা হিসেবে রয়েছেন শাহিদ কাপুর এবং কারিনা কাপুর খান। এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেন। ২০১৬ সালে শাকুন বার্তা পরিচালিত “কাপুর অ্যান্ড সন্স” নাট্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ে মাধ্যমে বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সমর্থ হন। যার প্রতিটি চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী প্রায় ₹১ বিলিয়ন রুপি (১৩.৯১ মিলিয়ন US ডলার) আয় করে।  ২০১৮ সালে তিনি মেঘনা গুলজার পরিচালিত “রাজি” চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এ চলচ্চিত্রে তিনি ভারতীয় গোয়েন্দার ভুমিকা পালন করেছেন, যেখানে তিনি এক পাকিস্তানি নাগরিককে বিয়ে করেন। এটি ব্যবসায় সফল চলচ্চিত্র ছিল এ বছরের শেষে। 
 
 
আলিয়া চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তার অভিনীত দুইটি চলচ্চিত্রের দুইটি গানে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। আলিয়া এ পর্যন্ত অনেক ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের কাজ করেছেন। এর মধ্যে কোকাকোলা, গার্নিয়ার, মেইবলিন, মেক মাই ট্রিপ ইত্যাদি ব্র্যান্ড উল্লেখ্য যোগ্য। 
 
 
 

সম্পর্কের দিক থেকে আলিয়া বেশ কিছুদিন অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ছিলেন । এরপর জানা যায় তারা তাদের সম্পর্কে বিচ্ছেদ টানে। সম্প্রতি তাকে রানবির কাপুরের সাথে নতুন করে সম্পর্কে জড়ানোর কথা শোনা যায়। যদিও এ ব্যাপারে আলিয়া স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।  
 
 
 
তারকালয়/১৯/০২/১৯/রুপা 

Previous ArticleNext Article