সাজগোজ

কীভাবে ঘরে বসেই উপটান তৈরি করবেন ফর্সা হওয়ার জন্য! 

উপটান একটি আয়ুর্বেদিক প্যাক যা তৈরি হয় বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান যেমন হলুদ, চন্দন, নিম, বেসন, তুলসী, মেথি ইত্যাদির গুঁড়ো থেকে। এটি বিয়ের কনেদের বিবাহপূর্ব রূপচর্চার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে অতি প্রাচীনকাল থেকে। সেই থেকে এটি ভারতীয় উপমহাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী রূপ সামগ্রী। ধারণা করা হয়, উপটান পৃথিবীর সব চেয়ে প্রাচীন রূপ সামগ্রী যা প্রাচীন বৈদ্যরা ব্যবহার করার পরামর্শ দিতেন। আজকের পৃথিবীতে, যেখানে দূষণ আর ভেজালের হাত থেকে কারোই রেহাই নেই, তখন আমাদের ত্বকের উপটানের মত একটি প্রাকৃতিক সমাধানেরই প্রয়োজন! উপটানে রয়েছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান যা আমরা আমাদের রান্নাঘরেই পেয়ে যাব; এর জন্য বাজারে গিয়ে দামি কোন কেমিক্যালযুক্ত বিউটি প্রোডাক্ট কিনতে হবে না যা কিনা শুধু ত্বকের ক্ষতিই করবে। তবে সব ত্বকের জন্য একই ধরনের উপটান ব্যবহার করা যাবে না। উপটান ব্যবহার করতে হবে ত্বকের ধরন বুঝে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপটানেও রয়েছে ভিন্নতা 
 
 

 

১. সাধারণ ত্বকের জন্য উপটান  
 

যা যা লাগবে 

  • ১ টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়ো 
  • ২ টেবিল চামচ বেসন 
  • ১/২ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়ো 
  • ২ টেবিল চামচ দুধ 
  • ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল  
  • একটি পাত্র ( মিশ্রণটির জন্য) 
  • একটি ব্রাশ ( ঐচ্ছিক ) 
     

প্রণালী 

  • প্রথমে একটি পাত্রে সবগুলো ড্রাই উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন এরপর এতে দুধ দিন। 
  • হাত অথবা ব্রাশের সাহায্যে মিক্স করুন। খেয়াল রাখবেন যেন বেশি পাতলা অথবা বেশি ঘন না হয়। যেন পুরো মুখে হয়।
  • গোসলের ১০-১৫ মিনিট পূর্বে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলেই ধুয়ে ফেলুন। 
  • প্যাকটি লাগানোর পর বা সাথে সাথে কোন ফেস ওয়াশ অথবা সাবান লাগাতে যাবেন না কেননা এই উপটান আপনার ফেস ওয়াশ এর কাজ করবে। 
  • আপনি চাইলে এটি আপনার প্রতিদিনের ফেস ওয়াশ অথবা সাবান হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন খুব ভালো কাজে দিবে। এছাড়া আপনি সপ্তাহে অন্তত তিন বার ব্যবহার করবেন। 
     
     

উপকারিতা 
 
কাচা দুধ ত্বকের যত্নে খুবই উপকারী। এটি আপনার ত্বককে হাইড্রেটেড করে, ডিপ ক্লিনজিং করে, অয়েল কন্ট্রল করে, এক্সফোলিয়েট এর কাজ করে থাকে। এই দুধ যখন উপটান এর সাথে মিক্স করবেন। আপনার আর অন্য কোনো রুপচর্চার প্রয়োজন হবে না। 
 
 

 

২. উপটান ফেস স্ক্রাব  

 
যা যা লাগবে  

  • ১ টেবিল চামচ অটমিল  
  • ৩ টেবিল চামচ বেসন  
  • ২ টেবিল চামচ চন্দন পাউডার   
  • ১/২ টেবিল চামচ হলুদ গুড়ো  
  • ২ টেবিল চামচ শসা পেস্ট  
  • একটি পাত্র  
     


প্রণালী 

  • সবগুলো ড্রাই উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। 
  • এরপর মিশ্রণটিতে শসার পেস্ট দিয়ে মিক্স করে নিন। 
  • অল্প অল্প করে নিয়ে সার্কুলার মোশনে পুরো মুখে স্ক্রাব করুন। 
  • অন্তত ৫-১০ মিনিট এভাবে স্ক্রাব করুন। 
  • এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
  • সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও আমাদের ত্বকে স্ক্রাব করা উচিত এতে করে ত্বককে মৃত কোষ ও ময়লা কেটে যায়।ব্ল্যাকহেডসব্রনের সমস্যা কমে যায়। 
     
     
     

 

৩. ড্রাই স্কিনের জন্য উপটান  

 
যা যা লাগবে  

  • ১ টেবিল চামচ বেসন  
  • ১ টেবিল চামচ চন্দন পাউডার  
  • ১/২ টেবিল চামচ হলুদ গুড়ো  
  • ২ টেবিল চামচ দুধ  
  • ১ টেবিল চামচ মধু  
  • ১ টেবিল চামচ লেবুর রস  
  • একটি পাত্র  

  

প্রণালী  

  • সবগুলো ড্রাই উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। 
  • এবার মধু, দুধ ও লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মিক্স করে নিন। 
  • পুরো মুখে ১০-১৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
  • সপ্তাহে অন্তত দুই বার ব্যবহার করবেন। যা আপনার ত্বককে ভেতর থেকে ময়শ্চারাইজ করবে। এমনকি এতে আছে লেবুর রস যা ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে। আপনার ত্বককে করবে উজ্জ্বল ও ফর্সা 

 


 
তারকালয়/২৭/১০/১৮/রুপা 

Previous ArticleNext Article