সাজগোজ

কীভাবে মেকআপ ছাড়া ন্যাচারালি  সুন্দর হওয়া যায়! 

আমাদের মধ্যে অনেকেই নিজেকে সুন্দর দেখাতে আয়নার সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে দেই! অনেকেই আবার মেকআপ করতে জানেন না। তাই বলে যে তাদের সুন্দর দেখায় না তা কিন্তু নয়। আপনার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে মেকআপ এর উপর নির্ভর হতে হবে না। ন্যাচারালি সুন্দর্য হল আসল সুন্দর্য। আপনি চাইলে ন্যাচারালি সুন্দর্য হতে পারেন। সেজন্য আপনাকে একটু কষ্ট করতেই হবে। আসুন জেনে নেই কিভাবে আপনি মেকআপ ছাড়াই ন্যাচারালি সুন্দর হতে পারবেন। 
 

 

 
১. গ্লোয়িং ত্বক পেতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস  
 
কথায় আছে “আপনি যা খাবেন তেমনই দেখবেন”। একটি পুষ্টিকর খাদ্য তালিকাই যথেষ্ট সুন্দর গ্লোয়িং ত্বক পেতে। প্রতিদিনের খাবারে অবশ্যই ফলফ্রূট ও শাকসবজি রাখবেন। ওমেগা ৩ যুক্ত খাবার যেমন বাদাম এবং ভিটামিন যুক্ত খাবার যেমন অরেঞ্জ, মিষ্টি আলু, কুমড়ো। এছাড়াও উচ্চ মাত্রায় প্রোটিনস যুক্ত খাবার যেমন- ডিম, মুরগির মাংস, শিমের বিচি, মসুর ডাল, ছোলা, চিজ ইত্যাদি। 
 


 


২. পরিমিত পানি পান 
 
পানি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদের শরীরের প্রতিটি সিস্টেম ও ফাংশন পানির উপর নির্ভর। তাই যেখানেই যাবেন সাথে এক বোতল পানি সাথে রাখবেন নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে। আমাদের দৈনিক ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। এতে করে আপনার শরীরের বিষাক্ত টক্সিন বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। ত্বকের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করে। 
 
 

 

৩. পর্যাপ্ত ঘুমানো 

পর্যাপ্ত ঘুম সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে আপনার ত্বকের জন্য যথেষ্ট। আপনি যদি সুন্দর দেখতে চান তাহলে অবশ্যই দৈনিক ৬ ঘণ্টা ঘুমাবেন। তবে মনে রাখবেন অতিরিক্ত ঘুম ও কিন্তু শরীরের জন্য ভালো নয়। সারাদিনের সব কাজ শেষ করে স্ট্রেস ফ্রি হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। দেখবেন ডার্ক সার্কেল তো দূর ত্বকের অন্যান্য সমস্যা সারিয়ে তুলবে। 
 
 

 

 

৪. হেলদি স্কিনের জন্য ওয়ার্ক আউট 
 
কায়িক পরিশ্রম শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরী। যেমন ধরুন জিম করা, যোগ ব্যায়াম করা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে এক্সারসাইজ স্কিনের জন্য উপকারী এবং মানসিক বিকাশেও কাজ করে। সপ্তাহে অন্তত তিন ঘণ্টা এক্সারসাইজ আপনার শরীরের জন্য উপকারী। এটা আপনার রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, টক্সিন বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে, আপনার স্কিনের অক্সিজেন প্রবেশ করতে সাহায্য করে।  
 
 


 

 

৫. নিয়মিত ত্বকের সঠিক যত্ন নেয়া  
 
আপনাকে প্রথমত আপনার ত্বকের ধরন জানতে হবে। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ত্বকের যত্ন নিতে হবে। একটি হেলদি স্কিন পেতে ত্বকের ক্লিনজিংটোনিংময়শ্চারাইজিং করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বেলা ও রাতের বেলার আলাদা ভাবে রুটিন অনুযায়ী ত্বকের যত্ন নিবেন। অবশ্যই যে প্রডাক্টস আপনি ব্যবহার করবেন ত্বকের ধরন অনুযায়ী ও ত্বকে স্যুট করবে এমন দেখে ব্যবহার করবেন। রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ত্বক ক্লিনজার দিয়ে ক্লিন করে ঘুমাবেন। হাতে পা-এর জন্য আলাদা ভাবে লোশন ব্যবহার করবেন। 
 
 
 

৬. এক্সফোলিয়েশন করা  
 
এক্সফোলিয়েশন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে আপনার নিয়মিত স্কিন কেয়ারের একটি অংশ করে রাখুন। কেননা আমাদের ত্বকে সবর্দা মৃত কোষ জমতে থাকে যার ফলে ত্বকের নানান সমস্যা দেখা দেয়। তাই ত্বকের এক্সফোলিয়েট করলে মৃত কোষগুলি সহজেই তুলে ফেলা যার এর ফলে ত্বকের নতুনভাবে ফ্রেশ ও হেলদি কোষ গঠন করে। এক্সফোলিয়েশন এর জন্য যে কোন ধরনের প্রাকৃতিক স্ক্রাবার ব্যবহার করতে পারেন যেমন কফি স্ক্রাব , সুগার স্ক্রাব ঠোঁটের জন্য , বেসন বা আটা ব্যবহার করে। 
 
 
 

৭. সানস্ক্রিন ব্যবহার করা 
 
সানস্ক্রিন ব্যবহার করা আবশ্যক। কেননা আপনি যখনি বাহিরে যাবেন সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির ফলে আপনার ত্বকের ট্যান হবে। ত্বক পুড়ে যাবে বা ত্বকে ছোপ ছোপ কালো দাগ পরে যাবে। যা সহজে সারতে চায় না। তাই আর যাই করবেন ত্বক ভালো রাখতে হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতেই হবে। 
 
 

 

৮. গ্রীন টি পান করা  
 
গ্রীন টি নিয়ে আমরা সবাই পরিচিত। এটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এটি নানা পুষ্টিগুন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এটা রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, কলেস্টেরল ও উচ্চ রক্ত চাপ কমায়, স্বাস্থ্যকর ত্বক গঠন করতে সাহায্য করে। তাই এখুনি গ্রীন টি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। 
 
 
 

৯. নাইট ক্রিমের ব্যবহার  
 
অনেকেই হয়তো ভাবছেন নাইট ক্রিম ব্যবহার করা কী জরুরী? তবে বলব জী হ্যা! সারাদিনের বাইরের বায়ু দূষণ, ধোঁয়া, সূর্য ও ফ্রি রেডিকেলস সব মিলিয়ে ত্বকের বারোটা বেজে যায় বয়সের আগেই বয়সের ছাপ পড়ে যায় চেহারায়। তাই নাইট ক্রিম ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের ত্বকের পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ময়শ্চার করতে সাহায্য করে। তাই আপনাকে অবশ্যই আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী হাই কোয়ালিটি নাইট ক্রিম বাছাই করতে হবে। 
 
 
 

১০. নিজেকে এবং নিজের ত্রুটিগুলোকে ভালোবাসুন 
 
নিজেকে ভালোবসতে শিখুন। নিজেকে ভালোবাসা স্বার্থপরতা নয় ; এটা ততটাই গুরুত্বপূর্ণ যতটা ভালোবাসা আপনি অন্যকে দিয়ে থাকেন। কেউ পারফেক্ট না আর না পারফেক্ট হয়ে জন্মায়। প্রত্যেকের খুঁত থাকেই কিছু না কিছু ত্রুটি থাকেই। তাই নিজের ত্রুটি গুলোকে ভালোবাসুন। এতেই আপনার সৌন্দর্য ফুটে উঠবে।  
 
 
তারকালয়/২৮/১০/১৮/রুপা 
 
 
 

Previous ArticleNext Article