সাজগোজ

কিভাবে ভিটামিন ই চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে? 

হেয়ার ফল এমন একটি সমস্যা যা আমাদের সাথে অনেক পরিচিত। সময়ের সাথে সবাইকে চুল ভেঙ্গে পরার মত সমস্যা ফেস করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এই সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী রুপ ধারন করছে। যাদের সাথেই পরিচয় হচ্ছেন প্রত্যেকেই কি একই কথা বলছে? যে “আগে আমার চুল অনেক সুন্দর ও ঘন ছিল কিন্তু ধীরে ধীরে একদম পাতলা ও রুক্ষ হয়ে গেল”। এ যেন একু কমন সমস্যা। তাই এটা সত্য যে আপনি যদি আপনার চুলের কেয়ার না করেন তাহলে এটি কখনো আপনারুশ্রু কেয়ার করবেনা।

চুলে পড়া আটকানো আসলে এতটা সহজ নয় যতটা আমরা ভাবি। এই সমস্যা সমাধানে উপায় তো অনেক আছে, কিন্তু এর মধ্যে কিছু আছে যা সত্যি কাজ করে। ভিটামিন ই তাদের মধ্যে একটি। ভিটামিন ‘ই’-তে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রপার্টিস আছে বলেই এটাকে বেস্ট উপকরণ বলা হয়। এটি আপনার ত্বক ও চুলের ত্বকের ক্ষতি করে এমন ফ্রি রেডিকেলসের বিরুদ্ধে একটি ঢাল হিসেবে কাজ করে।

ভিটামিন ই এর রাসায়নিক নাম আলফা-টোকোফেরল। এটি একটি চর্বি দ্রবণীয় ভিটামিন যা স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য উপকারিতায় কাজ করে যেমন চুলের রুক্ষ, শুষ্কতা হ্রাস করে এবং আপনার চুলে একটি অভাবনীয় উজ্জ্বলতা প্রদান করে। ভিটামিন ই তেল এবং সাপ্লিমেন্টগুলি চুল পরিচর্যায় বেস্ট পণ্য হিসাবে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কিন্তু তার আগে আমরা জেনে নেই, ভিটামিন ই কিভাবে চুলকে এত ভালো করে?

 

 

চুল বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ই এর উপকারিতা

 

১. রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে : ভিটামিন ‘ই’ রক্তের বাহনকে প্রশস্ত করতে সাহায্য করে যাতে এটি সহজেই বাহিত হয়। এটি রক্তচাপ হতে বাধা দেয়। তেল, যখন মাথার ভেতরে মাথার ত্বকে ম্যাসেজ করা হয়, তখন রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় যা চুলের ফলিকলসে অনুকূল পুষ্টি যোগান দেয়। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস দ্বারা সৃষ্ট মাথার ত্বকের ডেমেজকে ডিটক্সিফাইং করে চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
 

২. তেল উৎপন্ন ও পিএইচ মাত্রা কে নরমাল রাখে : আরও ঘন ঘন চুল পরার প্রধান কারণ হচ্ছে তেল-এর অত্যধিক উৎপাদন অথবা মাথার স্কাল্পের পিএইচ মাত্রার ভারসাম্যহীনতা। যখন আপনার মাথার ত্বক বা স্কাল্প ড্রাই হয়ে যায় তখন সেবাসিয়াস (sebaceous) গ্রন্থি ( gland) থেকে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত তেল উৎপন্ন হয়। অতিরিক্ত তেল চুলের গ্রন্থিকোষ জমাট বাঁধাতে শুরু করে এর ফলে স্কাল্পে চুলকানি,খুশকি (dandruff) দেখা দেয়া, আর অবশেষে হয় হেয়ার ফল। ভিটামিন ‘ই’ তেল চুলের ময়শ্চারকে ধরে রাখে, ত্বকের ড্রাইনেস দূর করে, তেল উৎপন্ন ও পিএইচ মাত্রাকে ব্যালেন্স রাখে।

 

৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতা : ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ যা ফ্রি রেডিকেলস গুলো আপনার মাথার স্কাল্প ও চুলকে ডেমেজ করে তাকে প্রতিরোধ করে। এটা আপনার চুলের গ্রন্থিকোষকে (follicles) ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এমনকি চুলে আগা ফাটা ও চুল ভাঙ্গা প্রতিরোধ করে।

 

৪. চুলকে কন্ডিশন করে : ভিটামিন ই তে আছে শক্তিশালী উপশমকারী প্রপার্টিস। যা চুলকে কন্ডিশন করে চুলের গোড়ায় ময়শ্চারকে আটকে রাখে। নিয়মিত ব্যবহার-এর সাথে, ভিটামিন ই স্কাল্পের শুষ্কতা মোকাবেলা করে আপনার চুলকে করে শক্তিশালী, মসৃণ, আর চকচকে।

এই ভিটামিন-এর ঘাটতির কারণে হতে পারে অস্বাস্থ্যকর চুল। কিন্তু, ভালো খবর আছে যেটা হচ্ছে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত অনেক খাবারে ভিটামিন ই থাকে সেগুলো যেন আপনার খাদ্যতালিকায় থাকে এতে আপনি সহজেই ভিটামিন ই এর অভাব পূরণ করতে পারবেন।

 

যেভাবে ভিটামিন ই চুল বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করবেন-

 

১. ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

আপনার চুলের স্বাস্হ্যবিধানে ভিটামিন ই সেবনের এটা হচ্ছে সবচেয়ে সহজ উপায় । অভ্যন্তরীণ পুষ্টি হচ্ছে ততটাই জরুরী যতটা বহিঃস্থ পুষ্টি হিসেবে চুল বৃদ্ধিতে। তাই এটা জরুরী যে আপনার ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার। ভিটামিন ই সম্পূরক খাদ্যগুলো যেমন সবুজ শাকসবজি এর মধ্যে পালং শাক, ব্রকলি; বাদামের মধ্যে চিনাবাদাম, হ্যাজেল নাট, কাজুবাদাম, সূর্যমুখী বীজ; তেলের মধ্যে ভেজিটেবল অয়েল, অলিভ অয়েল; এভোকাডো ছাড়া ও আরও অনেক । এছাড়াও তাৎক্ষণিকভাবে ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন যা ট্যাবলেট আর ক্যাপসুলে দুই ধরনের পাওয়া যায়। ভিটামিন ই ট্যাবলেট হচ্ছে একটি জনপ্রিয় চিকিৎসা যা ব্যবহার করা হচ্ছে চুল পড়ার সমস্যার জন্য। দৈনিক ৪০০ আই ইউ এর ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট নেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটা হচ্ছে সুপারিশ করা মাত্র যা আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যে উন্নতি ঘটায় যেকোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ব্যতীত। তবে হ্যা বেশি কোন কিছুই ভালো না। তাই সেবনের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

 

২. ভিটামিন ই আছে এমন শ্যাম্পুর ব্যবহার

অনেক শ্যাম্পু আছে যা চুলের পুষ্টি বাড়াতে মুলত তৈরি হয় ভিটামিন ই দিয়ে। শ্যাম্পু বেছে নিতে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে শ্যাম্পুটি করতে যা হচ্ছে মুক্ত সালফেট (sulfates) আর (parabens) প্যারাবিনস মুক্ত কি না। এই শ্যাম্পু গুলো অনেক জেন্টল হয়ে থাকে এবং স্কাল্পের থাকা ন্যাচারাল তেল তুলে ফেলেনা। মনে রাখবেন শুধু ভিটামিন ই জাতীয় শ্যাম্পু আপনার চুলের বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট নয়। আপনাকে নিয়মিত তেল মাসাজ আর হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

 

৩. ভিটামিন ই অয়েল ব্যবহার করুন

১০-২০ টা ভিটামিন ই ক্যাপসুল নিন আপনার চুলের লম্বা অনুযায়ী, এরপর ক্যাপসুলটির মাথা কেটে তেল বের করে সেটি একটি বাটিতে সংগ্রহ করুন। যদি তেল বেশি ঘন হয় তাহলে এর সাথে অন্য যেকোনো তেল মিশিয়ে নিন যেমন অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল। এরপর আপনার চুল ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর ভিটামিন ই তেলটি আপনার স্কাল্পে মাসাজ করুন। ৩০ মিনিট রেখে এরপর একটি মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

 

তারকালয়/৩০/০৯/১৮/রুপা

Previous ArticleNext Article