সাজগোজ

চুল পরা রোধে অত্যন্ত কার্যকরী কিছু টিপস জেনে নিন

চুল ছাড়া সৌন্দর্য আসলে কল্পনা করা যায় না। সেই চুল যদি পরতে শুরু করে অনবরত তখন আর কিছুই ভালো লাগে না। সৌন্দর্য রক্ষায় চুলের যত্ন অত্যন্ত জরুরী । চুল পরা বন্ধ করতে আমরা কত কিছুই না করে থাকি। এমনকি, একের পর এক প্রসাধনীও ব্যবহার করেও চুল পড়া বন্ধ হয় না। তবে হ্যা, একটি বিষয় সব সময় মনে রাখা উচিত যে, যদি প্রতিদিন কারও ৫০-১০০ টি মতন বা তার কিছু বেশি চুল ওঠে, তাহলে তা খুবই সাধারণ ব্যাপার। তবে, এর বেশি চুল পরতে শুরু করলে তখন তা যথেষ্ট চিন্তার কারণ। কাজেই চুল বেশি পড়লে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে ।

নিচে চুল পড়া রোধের কিছু  টিপস দেওয়া হলো-

রেগুলার হট অয়েল মাসাজ : চুল পরার অন্যতম একটি কারণ হতে পারে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো না হওয়া। সেইজন্য রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে প্রয়োজন নিয়মিত হট অয়েল মাসাজ। নারকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে স্টিলের কোন পাত্রে গরম করে আলতো করে হাতে নিয়ে মিশ্রণটা মাথার স্কাল্পে মাসাজ করুন। নারকেল তেল চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে নারকেল তেলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট, খনিজ উপাদান এবং প্রোটিন থাকে, যা চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করতে পারে। ক্যাস্টর অয়েলে রয়েছে ভিটামিন ই, মিনরেলস, প্রোটিন, এসেন্সিয়াল ফ্যাটি এসিড যা চুল পড়া রোধ করার সাথে সাথে নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।

পেঁয়াজের রস : এতে থাকা সালফার (sulphur) এমন একটি উপাদান যা হেয়ার ফলিকেলসে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দিয়ে নিমেষে চুল পড়া কমিয়ে দেয়। পেঁয়াজের রসে রয়েছে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ, যা স্কাল্পে ঘর বেঁধে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে। ফলে স্কাল্প ইনফেকশনের সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়ার অশঙ্কাও কমে যায়। কীভাবে চুলে লাগাবেন পেঁয়াজের রস? ১ টা পেয়াজ থেকে রস সংগ্রহ করে নিন। তারপর সেই রসের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে সরাসরি মাথার ত্বকে লাগিয়ে মাসাজ করুন। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে নিন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ২-৩ বার এই পদ্ধতিতে চুলের পরিচর্যা করলে ফল পাবেন একেবারে হাতে-নাতে।

রসুনের রস : পেঁয়াজের মত রসুনের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণে সালফার (sulphur) যা চুলের জন্য খুব উপকারী। এতেও রয়েছে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ, যা স্কাল্পে ঘর বেঁধে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে। ফলে স্কাল্পের ইনফেকশন হওয়া থেকে চুলকে রক্ষা করে। কীভাবে চুলে লাগাবেন রসুনের রস? রঁসুনের ৫/৬ টি কোয়া নিয়ে বেঁটে নিন অথবা ব্লেন্ডারের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নেবেন। এবার এই বাঁটা অংশটি নারিকেল তেলে কিছুক্ষন চুলায় ফুটিয়ে নিন। মিশ্রনটি ঠান্ডা হলে মাথার ত্বকে লাগান।

আমলকি : আমলকি এমন একটি ফল যার গুনাগুন বলে শেষ করা যাবে না। আমলকীর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুল পড়া কমায়। চুল পরা রোধের পাশাপাশি চুলের সংখ্যা বাড়াতে আমলকির জুড়ি নেই।
আমলকির রস বা আমলকি গুড়ো এর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন । শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এরপর একটি মাইন্ড শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন ।

মেহেদী : চুলের যত্নে তেল এর পরেই আসে মেহেদীর নাম।
ন্যাচারাল ভাবে চুলকে কন্ডিশন করার পাশাপাশি মেহেদি পাতা ব্যবহার করে চুল পড়া কমানো সম্ভব। এক কাপ শুকনো মেহেদি পাতার গুড়ার সাথে আঁঁধা কাপ দই সাথে একটি ডিম ও আমলকির রস মিশিয়ে নিন ভালো করে। মিশ্রণটি চুলে লাগান এবং যতক্ষণে চুল না শুকিয়ে যায় অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ব্যবহারের ফলে চুল হবে ন্যাচারাল স্ট্রেইট ও সিল্ক । এই মিশ্রণটি সপ্তাহে ২ বার দিয়ে দেখুন তফাত আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন।

ডিমের সাদা অংশ এবং টক দই মিশ্রণ : একটি পাত্রে দুটি ডিমের সাদা অংশ আলাদা করে নিন এবং এতে দুই টেবিল চামচ টক দই ও মধু যোগ করে ভালভাবে মেশান। তাতে এক টেবিল চামচ শিকাকি বা নিম পাউডার যোগ করুন। এই মিশ্রণটি মাথার ত্বকে ভালভাবে মাখুন এবং ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। চুল ঝরে পড়া রোধে পদ্ধতিটি প্রতি সপ্তাহে একবার অনুসরণ করুন।

তারকালয়/১৮ আগস্ট,২০১৮/রূপা

Previous ArticleNext Article