সাজগোজ

হেয়ার প্রোটিন ট্রিটমেন্ট!

চুল আমাদের কার না ভালো লাগে? সবাই চায় উজ্জ্বল ও মসৃণ চুল। চুলের পুষ্টিগুন কমে চুল দেখায় রুক্ষ ও ডেমেজ। অনেক সময় চুলে নিয়মিত শ্যাম্পু করা, তেল দেয়ার পরও চুল উজ্জ্বল ও মসৃণ হয় না। তখন বুঝতে হবে আপনার চুলের জন্য দরকার আরও বেশি পরিমাণে পুষ্টি। আমাদের চুল গঠিত হয়েছে কেরোটিন নামক এক ধরনের প্রোটিন দিয়ে। এ কেরোটিনের উপস্থিতির কারণেই আমাদের চুল সুস্থ-সবল থাকে এবং চুলের ইলাস্টিসিটি ধরে রাখে। প্রোটিন হেয়ার প্যাক এর হারবার উপাদানে কেরোটিন বিদ্যমান। নিয়মিত ও যথাযথ ব্যবহারে চুলের ভেঙে পড়া রোধ হয়, চুলের গঠনকে পুনর্বিন্যাস করে, চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।  
কোনো ধরনের কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট অর্থাৎ কালারিংরিবন্ডিংস্ট্রেইটনিংপার্মিংকার্লিং ও ব্লোড্রায়িং ইত্যাদির কারণে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হলে মাসে দু-তিনবার বা প্রতি সপ্তাহে একবার প্রোটিন হেয়ার ট্রিটমেন্ট করা যেতে পারে। আর সুস্থ স্বাভাবিক চুলেক যত্ন নিয়মিত পরিচর্যার অংশ হিসেবে মাসে একবারই যথেষ্ট। প্রোটিন ট্রিটমেন্টে চুল নরম হয়। চুল পড়া কমে ও চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়।

 

 

হেয়ার প্রোটিন প্যাক 
 
যা যা লাগবে : 
২টি ডিম, 
১টি বড় সাইজের পাকা কলা, 
৪ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, 
৪ টেবিল চামচ টকদই, 
৩ টেবিল চামচ মধু 
১ চামচ লেবুর রস  
 
যেভাবে তৈরি করবেন :  
প্রথমে কলা নিয়ে ভালো করে চটকে নিন। এরপর ডিম দুটি ভালো করে ফেটে নিন যেন ফেনায়িত হয়ে যায়। মনে রাখবেন চুলের সাইজ অনুযায়ী ডিম নিবেন চুল লম্বা হলে ৩টি ডিম নিবেন। আল চুল ছোট হলে একটি ডিমেই চলবে। এরপর ডিমের মধ্যে অলিভ অয়েল, মধু, লেবুর রস মিশিয়ে নিন সবশেষে কলা দিয়ে ভালো করে মিক্স করুন যেন চুলে লাগালে মিশে যায়।

এবার আপনি আপনার চুল ভালো করে আচড়ে নিন যেন জট না থাকে। এরপর চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন। আপনি চাইলে ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন এতে করে চুলের গোড়ায় প্রবেশ করতে সাহায্য করে। এবার পুরো মাথা এ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে ঢেকে একটি শাওয়ার ক্যাপ পরে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।  
 
আধা ঘন্টা পর চুল ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলকে আরও মসৃণ করতে কন্ডিশনার লাগাতে পারেন। এরপর অবশ্যই ভালো ব্র্যান্ডের ও আপনার চুলের উপযোগী এমন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  

 

প্রয়োজনীয় সতর্কতা

  • সুন্দর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে প্রোটিন হেয়ার ট্রিটমেন্টই যথেষ্ট নয়, তার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করুন।
  • যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করুন।
  • চিরুনি, চুলের ব্রাশ, বালিশের কভার, তোয়ালে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • ভালো মান সম্পন্ন এবং ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
  • মাথার ত্বকের অয়েল ম্যাসাজ করুন, হেয়ার ট্রিটিমেন্টগুলো করুন
  • নিয়মিত চুল পরিষ্কার করুন। ভেজা চুল ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখবেন না, পানিটেল বা বেণী করবেন না। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া হেয়ার ড্রাই দিয়ে চুল না শুকিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ে চুল শুকাবেন, এতে চুলের ক্ষতি হবে না। নিয়মিত চুলের আগা ট্রিম করবেন। ঘুমানোর সময় পানিটেল বা বেণী করে রাখতে পারেন।
  • অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়লে বা মাথার ত্বকে অ্যালর্জি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
     

তারকালয়/২৫/০৯/১৮/রুপা

Previous ArticleNext Article