সাজগোজ

জেনে নিন চুলে কালার করে চুলের কি মারাত্মক ক্ষতি করতে চলেছেন!

ফ্যাশন ট্রেন্ডের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা কত কিছুই না করে থাকি। পোশাক থেকে শুরু করে চুলের স্টাইল পর্যন্ত। কিন্তু ভুলে যাই অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো। চুলের স্টাইলের জন্য চুলে কালার করে চুলের কত ক্ষতি করছি। “যুগের সঙ্গে পা না মেলালে যে অবলুপ্ত হয়ে যেতে হয়”- এমন ধরনায় বিশ্বাসী নতুন প্রজন্মে, আর তাই কিছু না বুঝেই এমন কিছু ফাঁদে পরে যান যে তাদের শরীরের মারাত্মত ক্ষতি হয়ে যায় এবং এই বিষয়ে তারা জেনে ওটার আগেই যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে যায়। যেমন ধরুন, চুলে কালার করার প্রবণতা প্রায় সব কম বয়সিদের মধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু এই ফ্যাশন আমাদের শরীর এবং চুলের স্বাস্থ্যের জন্য কি আদৌ ভাল?

চিকিৎসা বিজ্ঞান অন্য কিছু বলছে। গবেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন কতগুলি বিষয় নিয়ে, যেগুলির উত্তর জেনে নেওয়াটা সবারই প্রয়োজন। যেমন, হেয়ার কালার চুলে লাগান মাত্র ঝাঁঝালো একটা গন্ধ বেরোতে শুরু করে। এমনটা কেন হয়? আমাদের চুলের স্বাভাবিক গাড় কাল রঙ হঠাৎই অন্য রঙে বদলে যায় কীভাবে? আমাদের চুলের স্বাভাবিক রঙকে মুছে ফলতে যে যে উপদানগুলি ব্যবহার করা হয়, সেগুলি কি চুলের পক্ষে আদৌ ভাল?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর জানলে আপনিও চমকে যাবেন, তা কিন্তু সত্যি । কারণ বাস্তবটা যে খুব ভয়ঙ্কর। চুলে কালার করা মাত্র চুলের এবং শরীরের কী কী ক্ষতি হয়ে থাকে? চলুন এই কঠিন সত্যটি জেনে নেই।

হেয়ার কালারের উপস্থিত অ্যামোনিয়া চুলের বাইরের স্তরকে একেবারে নষ্ট করে দেয় :
চুলে কালার করা মাত্র সেটি বেশ কয়েকটি বাঁধা পেরিয়ে তবে চুলের ভিতরে গিয়ে পৌঁছায়। তবেই কালারটা দীর্ঘ দিন থাকে। এই বাঁধাগুলি পেরনোর সময় ধীরে ধীরে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। প্রথমে চুলের একেবারে বাইরের যে দেওয়াল রয়েছে সেটিকে ভেঙে দেয় অ্যামোনিয়া, যার জন্য হেয়ার কালারটি ভিতরে ঢুকতে পারে। আর এই দেওয়ালটা ভেঙে যাওয়ার কারণে চুলের প্রথম সেফটি স্তর আর মজবুত তাকে না। ফলে চুলের ক্ষতি শুরু করে দেয়।

হেলার কালারে উপস্থিত ক্ষতিকর পারোক্সাইড চুলের প্রকৃত রঙকে টেনে তুলে দিতে শুরু করে :
চুলের প্রথম রক্ষাকবচ ভেঙে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে হেয়ার কালারে উপস্থিত ব্লিচ বা পারোঅক্সাইড ধীরে ধীরে আমাদের চুলের যে কোলো রং কয়েছে তাকে ঘষে ঘষে তুলে দিতে শুরু করে। আর প্রাকৃতিক কালারের জায়গা নেয় কৃত্রিম কালার। প্রসঙ্গত, এই পুরো প্রক্রিয়াটি শুনতে যতটা সহজ মনে হল, আদতে কিন্তু তেমন নয়। একবার ভাবুন, চুলের রক্ষাকবচ নষ্ট হয়ে গেছে, আর অন্যদিকে পরোক্সাইডের মতো বিষ চুলের অন্দরে প্রবেশ করছে। এমনটা হলে চুলের স্বাস্থ্য কি আর ভাল থাকে! একেবারেই নয়।

অন্যান্য কেমিক্যালজনিত ক্ষতিগুলি :
তৃতীয় ধাপে হেয়ার কালারে উপস্থিত মনোমারস নামে একটি কেমিক্যাল চুলের একেবারে শেষ সুরক্ষাকবজ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়ে সেখানে নিজের মতো আরো একাধিক কেমিক্যাল তৈরি করে এবং সেগুলি একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়ে আয়তনে বড় হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে পলিমারস নামে একটি উপাদানের জন্ম দেয়, যা হেয়ার কালারকে চুলের ভিতরে চিরস্থায়ী জয়গা করে দেয়। সেই কারণেই তো দেখবেন দীর্ঘ দিন রং একই রকম থেকে যায়। গোসলের পরও রঙের কোনও পরিবর্তন হয় না।

হেয়ার কালারের ডাইটা দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখার ক্ষতি :
ডাইটা লাগানোর পর অনেকেই দীর্ঘ সময় পর স্নান করেন। ভাবেন ডাইটা যত বেশি সময় রাখবেন, তত ভাল রং হবে। একথার মধ্যে কোনো ভুল নেই যে ডাইটা বেশি সময় রাখলে চুলের রং আরো উজ্জ্বল হয়। কিন্তু সেই সঙ্গে রঙে উপস্থিত কেমিক্যাল বেশি বেশি করে চুলের ভিতরে প্রবেশ করে চুলের ক্ষতি সাধন করার সুযোগও পেয়ে যায়। তাই তো বলি রাখি, চুলের কৃত্তিম রং যত উজ্জ্বল হবে, তত চলের বেশি বেশি করে ক্ষতি হবে।

হেয়ার কালারের ফলে হেয়ার লস বেড়ে যাওয়া :
এই ধরণা একেবারেই ঠিক নয় যে রং করা মাত্র চুল পরা শুরু হয়ে যাবে। হেয়ার কালারের সঙ্গে চুল পরার সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তবে চুলে রং করার আগে এবং পরে যদি ভাল করে কন্ডিশনার লাগানো যায়, তাহলে চুল পরার আশঙ্কা আরো কমে যায়।

হেয়ার কালার থেকে ঝাঁঝালো গন্ধ বের হওয়ার কারণ :
রঙে উপস্থিত পারোঅক্সাইড চুলের অন্দরে থাকা প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সালফারের জন্ম দেয়। সেই কারণেই এমন ঝাঁঝালো গন্ধ বরতে শুরু করে। সেই সঙ্গে অনেকের চোখ জ্বালা করার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

অ্যামিনায় ছাড়া কালার গুলো সমানভাবে ক্ষতিকর :
এই ধরনা একেবারেই ভুল যে অ্যামোনিয়া ফ্রি কালার চুলের কোনো ক্ষতি করে না। একটা সহজ বিষয় হয়, চুলের প্রাকৃতিক রং না ওঠা পর্যন্ত কৃত্তিম রং নিজের জায়গা করবে কীভাবে! আর এমনটা যখনই হবে, তখনই তো চুলের দফারফা হয়ে যাবে। তাহলে একথা কী করে সত্যি হয় যে অ্যামিনিয়া ফ্রি রং চুলের কোনও ক্ষতি করে না। প্রসঙ্গত, অ্যামিনিয়া ছাড়া যে রঙগুলি পাওয়া যায় সেগুলি চুলের কিছুটা কম ক্ষতি করে এই যা, বাকি কোনও পার্থক্য়ই হয় না।

হেয়ার কালার ফলে আমাদের শরীরের যেসব ক্ষতি হয়ে থাকে :
একাদিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে চুলের রঙে উপস্থিত একাদিক কেমিক্যাল, যেমন- অ্যামিনোফেনল, ডায়ামিনোবেনঞ্জিন এবং ফেনিলেনডিয়ামাইন শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে। শুধু তাই নয়, ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি করে। তাই তো কম সময় অন্তর অন্তর চুলে রং করার অভ্যাস ছাড়ুন। না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

তারকালয়/২৮ আগস্ট,২০১৮/রূপা

Previous ArticleNext Article