সাজগোজ

চুলে জট পাকানো রোধ করতে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস।

সিনেমাতে পর্দায় দেখা যায় , নায়িকা একরাশ জটহীন, স্মুদ চুল নিয়ে ঘুম থেকে উঠছে। কিন্তু আমাদের বাস্তব জীবনে কি এমনটি ঘটে? বরং তার উলটোটা হয়। চুল ছোট হোক বা বড়, ঘুম থেকে ওঠার পর চুল এলোমেলো এবং জট পাকানোই নিয়ে ঘুম ভাঙ্গে। আমাদের সবারই কম বেশী প্রতিদিন জট পাকানো চুলের মুখোমুখি হতে হয়। আর যদি লম্বা চুল হয়, তবে তো কথাই নেই। জট ছাড়াতে গিয়ে অনেক সময় লেগে যায়। ড্রাই এবং ড্যামেজ চুলে কিন্তু জট বেশী বাধে। তাই আমাদের চুলটাকে হেলদি রাখা খুবই ইম্পরট্যান্ট। কিভাবে চুলে জট পাকানো রোধ করবেন সেটা নিয়েই আমার আজকের টপিক। তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেই, চুলে জট পাকানো রোধ করতে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস।
tarokaloy_hair_care
চুলে জট পাকানোর কারনগুলো আগে জেনে নিন আচ্ছা, চুলে জট পাকানো রোধের আগে, চুলে জট কেন পাকায় সেটা জেনে নেওয়াটা জরুরী। চুলে জট পাকানোর কারনগুলো হচ্ছে-
চুলে হাইড্রেশনের অভাব : যখন চুলে হাইড্রেশনের অভাব থাকে, তখন আপনার চুলের ঘর্ষণ আপনার চুলে জটের সৃষ্টি করে। হাইড্রেশনের অভাবে আপনার হেয়ার শ্যাফটের আউটার লেয়ার ভেংগে যায়, যার ফলস্বরূপ চুল রুক্ষ এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায়। ভেজা চুলে ঘুমানো : চুলে জট পাকানোর অনেকগুলো কারনের মধ্যে একটি কারন হচ্ছে ভেজা চুলে ঘুমানো। কারন, ভেজা চুল অনেক বেশী ভংগুর থাকে। তাই এটা সহজেই জট পাকিয়ে যায় এবং ভেঙে যায়।
tarokaloy_hair_care
চুল না আঁচড়ানো। কারন, নিয়মিত চুল আঁচড়ালে যেমন চুলের গোড়ায় ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধি পায়, তেমনি চুলে প্রচন্ড আকারে জট পাকানো এবং ছিঁড়ে যাওয়া রোধ হয়।
চুলের আগা ট্রিম না করলে : অনেক লম্বা সময় ধরে চুলের আগা ট্রিম না করলে চুলে এক সময় আগা ফাটা দেখা যায় এবং চুল অনেক বেশী ফ্রিজি হয়ে যায়। চুলের আগা কাটতেই হবে। কারন আগেই বলেছি, ফ্রিজি এবং ড্রাই চুলেই জট বেশী পাকায়।
tarokaloy_hair_care
চুলের কিউটিকেল ড্যামেজ হলে : টানা হিট স্টাইলিং টুলস ব্যবহারের ফলে আমাদের হেয়ার শ্যাফট ভেঙে যায় এবং চুল দূর্বল হয়ে যায়। হিট স্টাইলিং টুলস আমাদের চুলের কিউটিকেলস ড্যামেজ করে দেয়। যার ফলে চুল সহজেই জট পাকিয়ে যায়।
এই তো গেল চুলে জট পাকানোর কারন। এবার আসি কিভাবে চুলে জট পাকানো রোধ করতে পারি। এটি রোধ করার টিপস জেনে নিন
১. চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার: আলসেমির কারনে হোক বা সময়ের অভাবে হোক, অনেকেই দেখা যায় চুলে শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। শুধুমাত্র শ্যাম্পুর ব্যবহারই চুলের জন্য যথেষ্ট না। কন্ডিশনার ব্যবহারের ফলে চুল অনেক বেশী স্মুদ হয়ে যায়। কন্ডিশনার চুলকে সফট আর স্মুদ বানানোর ফলে চুলে সহজেই জট পাকিয়ে যায় না। তাই অবশ্যই শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না।
২. মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার: চিকন দাঁতের চিরুনির থেকে মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করা চুলের জন্য ভালো। কারন, মোটা দাঁতের চিরুনি গুলো চুল না ছিড়েই সহজেই চুলের জট খুলে দিতে পারে। এছাড়া আজকাল চুলের জন্য হেয়ার ডিট্যাঙ্গেলার ব্রাশ কিনতে পাওয়া যায়, যেগুলা চুলের জট ছাড়ানোর জন্য খুবই ভালো কাজ করে।
৩. চুলে জট বাধায় না এমন প্রোডাক্টস ব্যবহার করা: মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের হেয়ার সিরাম, স্প্রে, কন্ডিশনার পাওয়া যায়, যেগুলো জট পাকানো চুলের জন্য ভালো কাজ করে। এইসব প্রোডাক্টস চুলকে সফট এবং স্মুদ করে এবং জট পাকানো রোধ করে। যদি চুলে জট পাকিয়েও যায়, তবে এই ধরনের প্রোডাক্ট একটু নিয়ে চুলে লাগিয়ে ফেলুন। এরপর চিরুনি এর সাহায্যে চুল ব্রাশ করুন। দেখবেন, খুব সহজেই জট খুলে এসেছে।
৪. হেয়ার মাস্ক ব্যবহার: যতই ব্যস্ত হোন না কেন, চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সপ্তাহে একদিন অন্তত চুলে হেয়ার মাস্ক লাগাবেন। কারন, হেয়ার মাস্ক চুলের টেক্সচার ইম্প্রুভ করতে সাহায্য করে। হেয়ার মাস্ক ব্যবহারের ফলে চুল হাইড্রেট হয় এবং ড্রাই কিউটিকেলস গুলো অনেক বেশী স্মুদ হয়ে যায়। চুলের যত্নে টকদই, ডিম, মধু, আমন্ড অয়েল মিক্স করে লাগাতে পারেন। ৪০ মিনিট রেখে চুলে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার লাগিয়ে নিবেন। এতে চুল হবে ঝলমলে ও সুন্দর!
৫. হেয়ার অয়েলিং: চুলে পর্যাপ্ত পরিমানে ময়েশ্চার যোগাতে নিয়মিত চুলে তেল লাগানো খুবই জরুরী। কারন, হেলদি হেয়ারে সহজে জট পাকাবে না। আপনি আপনার পছন্দের যে কোনো হেয়ার অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। আবার চাইলে কয়েকটি অয়েল যেমন কোকোনাট অয়েল, অলিভ অয়েল, জোজোবা অয়েল, আমন্ড অয়েল ইত্যাদি মিক্স করেও লাগাতে পারেন।
৬. ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধোয়া: এই স্টেপটা খুবই সিম্পল বাট এফেক্টিভ। গোসলের শেষে চুল ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুবেন। এতে করে চুলের কিউটিকেলসগুলো ক্লোজ হয়ে যাবে এবং চুল ভাঙা রোধ হবে। কখনোই চুলে হট ওয়াটার ব্যবহার করবেন না। এতে চুল ড্রাই এবং ড্যামেজ হয়ে যায়।
৭. হিট স্টাইলিং টুলস এভোয়েড করুন: স্টাইল করতে গিয়ে আমরা তো চুলে অহরহ হিট ব্যবহার করেই থাকি। এতে চুল ড্যামেজ হয়ে যেতে থাকে। হিট স্টাইলিং টুলস ব্যবহারের আগে অবশ্যই চুলে হিট প্রোটেকশন স্প্রে লাগিয়ে নিবেন। এছাড়া চাইলে অল্প করে অ্যালোভেরা জেল বা আর্গান অয়েলও পুরো চুলে লাগাতে পারেন।
৮. ভেজা চুলের উপর টর্চার বন্ধ করুন: অনেককেই দেখি, গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে ভেজা চুলগুলোকে প্রচুর ঘষাঘষি করতে থাকেন। বিশেষ করে, গ্রামে অনেককেই দেখেছি ভেজা চুলে তোয়ালে দিয়ে বারি মেরে মেরে চুল মুছতে! এতে চুলের কত ক্ষতি হচ্ছে তা কি জানেন? এর ফলে চুল ড্যামেজ হয়ে যায় এবং চুলের আগা ফেটে যায়। তাই সবসময় ভেজা চুল মাইক্রোফাইবার টাওয়েল দিয়ে মুছতে হবে। মাইক্রোফাইবার টাওয়েল না থাকলে পুরোনো সফট টিশার্টও ব্যবহার করা যাবে। আস্তে ধীরে হালকা হাতে চুলের এক্সট্রা পানিটুকু শুষে নিয়ে চুল এয়ার ড্রাই করতে হবে।
সঠিক ভাবে চুলকে রক্ষা করতে উপরোক্ত উপায় গুলো অনুসরণ করলেই চুল জট মুক্ত রাখা যাবে।
Previous ArticleNext Article