সাজগোজ

রূপচর্চায় আদার ব্যবহার! 

কি ভাবছেন রূপচর্চায় আদা! আদার মতো ঝাঁঝালো জিনিস আবার রূপচর্চায় কি ভাবে ব্যবহার করে?প্রাচীনকাল থেকেই আদা অ্যান্টিসেপটিক উপাদান এবং রান্নার একটি অপরিহার্য মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পেট ফাঁপা থেকে শুরু করে সর্দির-কাশির সমস্যা পর্যন্ত সবকিছু আদার মাধ্যমেই সমাধান করা যায়। কিন্তু আপনি হয়ত জানেন না আদার স্বাদ ঝাঁঝালো হলে কী হবে! আদায় রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা রূপচর্চায় অসাধারণ কাজ করে। আসুন আজ আপনাদের বিভ্রান্তি দূর করে দেই।  


 

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে 

আদাতে আছে অ্যান্টি এজিং প্রপার্টিজ। এর মধ্যে অন্তত ৪০ ধরনের উপাদান আছে যেগুলো সূর্যের আলো থেকে হওয়া ড্যামেজ এবং বয়সের ছাপ রোধ করে। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে ত্বককে প্রাণবন্ত করে তোলে। সপ্তাহে একবার অন্তত ১ চা চামচ আদার রসের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ গোলাপজল ও ১ চা চামচ মধু মেশান। মুখ ও গলার ত্বকে মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। জৌলুস বাড়বে ত্বকের। 
 


 
ত্বকের সজীবতা 

আদায় রয়েছে ৪০ ধরনেরও বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এসব অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বক কুঁচকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। আদা ত্বকের বিষাক্ত উপাদানও দূর করে। বাড়িয়ে দেয় রক্ত চলাচল। সেই সঙ্গে দেহে উত্পাদিত ক্ষতিকর অন্যান্য উপাদান দূর করে ত্বকে আনে সজীবতা 
আদা কেটে রস সংগ্রহ করুন। আদার রস ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে দাগের উপর লাগান। কিছুক্ষণ পর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন ত্বক। দিনে দুইবার এটি ব্যবহার করলে দেখতে পাবেন আপনার ত্বকের কালচে ভাব দূর হয়ে গিয়েছে।  
 
 


রোদে পোড়া দাগ দূর করতে  

রোদে পোড়া দাগ দূর করতেও আদার জুড়ি নেই। বাইরে থেকে ফিরে শরীরের রোদে পোড়া অংশগুলোতে লাগিয়ে ফেলুন তাজা আদার রস। রোদে পোড়া দাগ দূর হয়ে যাবে। 
 


 

ব্রণের সমস্যায় আদা 

ব্রণের সমস্যা নিয়ে ভুগছেন—এমন লোকের অভাব নেই। সে ক্ষেত্রে আদা হতে পারে আপনার প্রিয় বন্ধু। আদা উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিসেপটিক উপাদানে পূর্ণ। ত্বকের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে, যা ব্রণের জন্য দায়ী।১ চা চামচ আদা গুঁড়ার সঙ্গে ১ চা চামচ মধু ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশান। মিশ্রণটি ব্রণ আক্রান্ত ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করলে দূর হবে ব্রণ ও ব্রনের দাগ। 
 
 
 
অ্যালার্জি বা চুলকানি 

ওষুধ বা মলমের দরকার নেই। এক চা চামচ শুকনো আদার গুঁড়ার সঙ্গে এক টেবিল চামচ সরিষা গুঁড়া মিশিয়ে নিন। সরিষায় আছে ভিটামিন এ, কে, ই এবং সি। হালকা গরম পানিতে এটি মিশিয়ে গোসল করতে পারেন। চুলকানি চলে যাবে। বাথটাবেও এই পানি ব্যবহার করতে পারেন। 
 


 

চুল পড়া কমায় 

যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে তারা আদা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটি মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়ায়। ফলে খুশকির সমস্যা দূর হয়। চুলের গোড়া শক্ত হয়, ফলে চুল পড়া কমে আসে। এক টেবিল চামচ আদা বাটা নিন। এতে দিন এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল। মিশিয়ে নিন ভালো করে। এবার এটি মাথার ত্বকে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করুন। এতে রক্ত চলাচল আরো বাড়বে। ২ টেবিল চামচ আদার রস ও আধা কাপ জোজোবা অয়েল একসঙ্গে মেশান। মিশ্রণটি সামান্য গরম করে নিন। কুসুম গরম অবস্থায় মাথার তালুতে ঘষে ঘষে লাগান এটি। সারারাত রেখে পরদিন মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল। সপ্তাহে একদিন এই হেয়ার প্যাক ব্যবহার করলে চুলের বৃদ্ধি দ্রুত হবে।  
 
 
তারকালয়/২৫/০৯/১৮/রুপা 

Previous ArticleNext Article