Uncategorized, সেলিব্রিটি বার্তা

অতীত ভুলে নতুন জীবনে অগ্রসর তাদের

দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ পর্যন্ত বহু নারী তারকার পদধূলি পড়েছে বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনে। তাদের কেউ রুপালি পর্দার জগতে, কেউ নাট্যজগতে, কেউবা আবার সঙ্গীতজগতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন।

কিন্তু অভিনয় করতে করতে মনের অজান্তে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যায় তারা নিজেরাও টের পায়নি। কিন্তু এই ভালোবাসা তাদের জীবনে শেষ পর্যন্ত টিকেছি!! কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত নিজদের ভালোবাসা অটুট রেখেছে,এক সাথে জীবনের শেষদিন টুকু গুণে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু তারকা তাদের ভালোবাসা ফুল ফুটিয়ে,সংসার পর্যন্ত গিয়েও শেষ পর্যন্ত টিকেনি। আজ জানবো এমন কিছু অভিনেত্রী যাদের সাথে জড়িত হয়েছে জীবনের নতুন যাত্রা।

সুবর্ণা মুস্তাফা: ১৯৮৪ সালে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীকে বিয়ে করেন সুবর্ণা মুস্তাফা। এই দম্পতি দীর্ঘ ২৪ বছর একসঙ্গে সংসার করেন। কিন্তু নানা দাম্পত্যর কলহের জেরে ২০০৮ সালে হুমায়ুন ফরিদীকে ডিভোর্স দেন সুবর্ণা। এর পরপরই তিনি বিয়ে করেন নাট্য পরিচালক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদকে। সুর্বণা মুস্তাফার চেয়ে বয়সে ১৪ বছরের ছোট সৌদ। তার সঙ্গেই এখন সংসার করছেন অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার মেয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা।

শমী কায়সার: ১৯৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের চিত্রনির্মাতা রিঙ্গোকে বিয়ে করেন শমী কায়সার। তাদের সংসারের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র দুই বছর। নানা কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে গেলে ভেঙে যায় তাদের সংসার। এরপর শমী বিয়ে করেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘরনার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ এ. আরাফাতকে। বর্তমানে তার সঙ্গেই সংসার করছেন নাট্যজগতের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

তাজিন আহমেদ: ছোট পর্দার পরিচালক এজাজ মুন্নাকে প্রথমে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। বেশি দিন টেকেনি তাদের সেই সংসার। এজাজ মুন্নার বিরুদ্ধে তাজিন মাদকাসক্তি ও পরনারী আসক্তির অভিযোগ তোলায় তাদের সংসারে ফাটল ধরে। বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় তাদের। এর পরে তাজিন বিয়ে করেন এক মিউজিশিয়ানকে।

বিজরী বরকত উল্লাহ: একে-অপরে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী বিজরী বরকত উল্লাহ ও সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন। তাদের ঘরে আসে ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান। বেশি দিন স্থায়ী হয়নি সে সংসার। তাদের বিচ্ছেদের পর বিজরী পরে বিয়ে করেন অভিনেতা ইন্তেখাব দিনারকে।

নওশীন নেহরিন মৌ: অভিনেত্রী নওশীন মিডিয়ায় প্রথম কাজ শুরু করেন আরজে হিসেবে। পরে তিনি টিভি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে দারুণ জনপ্রিয়তা পান। একপর্যায়ে তিনি টিভি নাটকেও নিয়মিত কাজ শুরু করেন। মিডিয়ায় কাজ করতে করতেই অভিনেতা হিল্লোলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। হিল্লোল তার স্ত্রী তিন্নিকে ছেড়ে নওশীনকে বিয়ে করেন। তবে এটি নওশীনের প্রথম বিয়ে ছিল না। মিডিয়ায় কাজ শুরুর আগে তিনি আরো একটি বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সেই বিয়ে বেশিদিন টেকেনি। সেই ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে নওশীনের।

সুজানা জাফর: মডেল ও অভিনয়শিল্পী সুজানা ঢাকার একটি বায়িং হাউজের কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদকে ২০০৬ সালে বিয়ে করেন। মাত্র চার মাসের মাথায় সে বিয়ে ভেঙে যায়। এর পরে ২০১৫ সালের ১ আগস্ট বয়সে ৭ বছরের ছোট কণ্ঠশিল্পী হৃদয় খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুজানা। দ্রুতই ভেঙে যায় তার দ্বিতীয় সংসারও। সুজানা-হৃদয়ের সংসারও স্থায়ী হয়েছিল মাত্র চার মাস।

নাদিয়া হোসেন: ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর অভিনেত্রী নাদিয়া প্রথমে বিয়ে করেছিলেন ছোট পর্দার অভিনেতা মনির খান শিমুলকে। সংসারজীবন শুরুর পাঁচ বছরের মাথায় তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের এপ্রিলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের খবরটি জানাজানি হয়। পরে ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি নাদিয়া বিয়ে করেন অভিনেতা নাঈমকে। বর্তমানে তার সঙ্গেই সংসার করছেন নাদিয়া।

Previous ArticleNext Article